অহমিকা
- ইসমাইল আহসান তুহিন

আমরা একে অপরকে জড়িয়ে ধরার চেয়ে,
একে অপরের ভুল ধরতেই বেশি ব্যস্ত ছিলাম।
অথচ অদ্ভুত ব্যাপার, আজ যখন ঘৃণা করতে বসছি,
তখনো চোখের সামনে ভেসে উঠছে আমাদের সুন্দরতম স্মৃতির পর্বত।
হয়তো চাইলেই পারতে সব শর্তের দেয়াল ভেঙে একছুটে চলে আসতে।
তথাকথিত সামাজিক জটিলতা, হিসেবি জীবনবোধের চেয়ে
একসাথে বেঁচে থাকা কি খুব বেশি নগণ্য ছিলো?
যখন একের পর এক দেয়াল তুলছিলে,
বুকের ভেতরটা তখন অভিমানে বিষিয়ে উঠেছিল।
সেই বিষ থেকেই হয়ে উঠেছিলাম হিংস্র পশু—
ঠিক যেমন আহত বাঘ নিজের অস্তিত্ব বাঁচাতে নখ বের করে।
আমরা একে অপরকে ধ্বংস করেছি ঠিকই,
কিন্তু ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে আছে আমাদের শ্রেষ্ঠ সময়গুলো।
এখন মাঝরাতে যখন একা থাকি,
মনে হয়—তুমি কি এখন সেই শর্তগুলো নিয়ে খুব সুখে আছো?
নাকি আমার মতো তুমিও পুরোনো মেসেজগুলো পড়ে নিজের মধ্যে নিঃশেষ হও?
আমরা দুজন দুজনকে প্রচণ্ড ঘৃণা করি,
আবার এই ঘৃণার আড়ালেই লুকিয়ে আছে এক তীব্র আকাঙ্ক্ষা।
আমাদের এই বিচ্ছেদ কোনো পরাজয় নয়,
বরং দুটো জেদি মানুষের আত্মাহুতি।
আমি জানি, তোমার অভিমানী মনের কোথাও এখনো
আমার জন্য গোপন হাহাকার জমা আছে।
তুমি যতই হিসাব মেলাও না কেন,
আমার দেওয়া সেই পাগলামিগুলোর কোনো গাণিতিক সমাধান তুমি পাবে না।
আমরা আলাদা হয়ে গেছি,
কিন্তু আমাদের ছায়াগুলো এখনো একে অপরকে খুঁজে বেড়ায়।
তুমি তোমার 'সঠিক' জীবন নিয়ে থাকো,
আর আমি আমার 'ভুল' গুলোকে আগলে রাখি।
দিনশেষে আমরা দুজনেই এক জেদি শূন্যতার কারিগর।

©অহমিকা
২৪ চৈত্র ১৪৩২ বাংলা
০৭ এপ্রিল ২০২৬ ইংরেজি
মঠবাড়ীয়া, পিরোজপুর।
#তুহিনেরকলম


০৭-০৪-২০২৬
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্য যোগ করুন

কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।

মন্তব্যসমূহ

এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।