স্মৃতির গারদ
- ইসমাইল আহসান তুহিন
‘বদলে গেছি’ আওড়ানো আজ এই আমিটাও
তোকে দেখে থমকে গেছি।
কতশত, হাজার বছর তোকে ছাড়াই কাটিয়ে দিলাম,
ভাবতেই চোখের পাপড়ি গুলোয় জল ঠেখেছি।
যেই ছেলেটা রেগে গিয়ে বকতো তোকে,
গালদিতো খুব বিচ্ছিরি সব?
খুঁজলে হয়তো বুঝতি সেদিন,
তোর পাশে ওর অন্য কাউকে ঘেন্না লাগে!
যে মানুষটা উঠতে বসতে ভালবাসতো,
কারণ ছাড়াই সব আবদার মানতে ছিলো বাধ্য সেদিন?
এখনো সে তোর ব্যাথাতে ডুকরে কাঁদে,
বালিশ ভেজায়, রাত্রি জাগে।
লোকের সামনে হাস্যরসের এই ছেলেটা,
একা হলেই থমকে যেতো,
আটকে যেতো স্মৃতির কাঁটায় আষ্টেপৃষ্টে।
মনে পরে?
যেদিন ছেড়ে চলে গেলি, মুখের কথা আটকে গেলো,
বোকার মতো দু'চোখ ভিজলো,
অবাক হয়ে তাকিয়ে ছিলাম একদৃষ্টে।
তারপর....
দিন কয়েকের সেকি কষ্ট! খাবার রুচি, ঘুমের সুতোয় জোড়ালো টান।
চোখের নিচের কালচে দাঁগে ক্রিম মাখাতাম,
পাছে লোকে বুঝতে পারে, নিন্দে করে!
তারপরে বিশ্বাস কর?
ঠিক মানিয়ে নিয়ে হাঁটতে থাকি,
মাঝেমধ্যে হঠাৎ যদিও পুরনো মেসেজ ঘাঁটতে যেতাম।
তবুও নিছক কাজের ছলে,
কিংবা মনের পেশির বলে ভুলে থাকতাম।
পার্কে রোজই হাঁটতে যেতাম।
বসে থাকতাম আপন মনে।
কিংবা পাশের সাগর পড়ে একা একা সূর্য ডোবার ছবি দেখতাম।
এই পথে আজ হঠাৎ তোমায় দেখতে পেয়ে হোঁচট খেলাম।
তলিয়ে গেলাম স্মৃতির জলে,
বাঁধভাঙা সেই স্রোতের দাপট সামলে ওঠা এতো সোজা?
চোখ ভেজালাম চোখের ভেতর,
উপর থেকে মুচকি হেসে পকেটে হাত,
জানতে চাইলাম “চারু... কেমন আছো?”
উত্তরে তোমার চোখে জল দেখে ঠিক অবাক হলাম!
তবে কি তুমি...?
না, না, সেইতো গেলে প্রতিষ্ঠিত প্রেমিকের সাথে,
তৃপ্তি ছিলো চোখের পাতায়।
পয়সা ছিলো, দম্ভ ছিলো,
সুখে থাকার স্বপ্ন ছিলো!?
তবে যে আজ একা তুমি জরাজীর্ণ,
ক্লান্ত শরীর?
ছেলেটা কি তবে...?
প্রতিত্তোরে পাল্টা প্রশ্নে কাটিয়ে নিলে।
বললে কেবল ”তোমার মেয়েটা কেমন আছে?”
এই তুমিকে দেখে আজকে, সত্যি ভীশণ কষ্ট পেলাম।
আমাদেরতো স্বপ্ন ছিলো, যদিও আমার পয়সার অভাব,
রগচটা আর খুঁতখুঁতে সেই নোংরা স্বভাব,
তবুওতো আগলে ছিলেম, বুঝলে না আর।
ভেজা দুচোখ, আড়াল করে পাশ ফিরেছে।
শুনতে পেলাম ভেতর থেকে হৃদয় ডেকে বললো আমায়;
সত্যিকারের ভালবাসলে চোখের জলেও তৃপ্তি আছে।।
©স্মৃতির গারদ
২৮ চৈত্র ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
১১ এপ্রিল ২০২৩ ইংরেজি
#তুহিনেরকলম
১১-০৪-২০২৬
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্যসমূহ
এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।

মন্তব্য যোগ করুন
কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।