অচেনা আগন্তুক
- ইসমাইল আহসান তুহিন

ধরুন কোনো এক তপ্ত দুপুরে,
অসহ্য গরমে আপনি হাঁটছেন শহরের তপ্ত পিচঢালা পথে।
পিপাসায় বুক ফেটে যাচ্ছে, অথচ চারপাশটা বড় বেশি নিস্পৃহ।
আপনি মনে মনে ভাবছেন, আজ যদি কেউ এক গ্লাস জল দিত—
ঠিক এমন সময় এক ধুলোমাখা পথশিশু এসে যদি বলে,
"এই নিন জলটুকু, আপনি অনেক ক্লান্ত দেখাচ্ছেন।"
সবটুকু জল আপনাকে দিয়ে সে যদি হাসিমুখে
ট্রাফিক জ্যামের ভিড়ে কোথাও হারিয়ে যায়,
আপনি কি তাকে মনে মনে খুঁজবেন?
বা ধরুন কোনো এক কনকনে শীতের রাতে,
গাড়ি নষ্ট হয়ে আপনি আটকা পড়লেন নির্জন কোনো এক হাইওয়েতে।
তীব্র শীতে শরীর জমে যাচ্ছে, চারদিকে জমাট অন্ধকার।
তখন আপনি আপনার সেই পুরনো বন্ধুর কথা ভাবছেন—
যে এক সময় আপনার জন্য জীবন দিতেও রাজি ছিল।
ঠিক তখনই যদি দেখেন সেই অদ্ভুত লোকটা এসে বলছে;
"ভয় পাবেন না, আমার এই ছেঁড়া চাদরটা গায়ে দিন,
আমি চাকাটা ঠিক করে দিচ্ছি, আপনার কোনো ক্ষতি হবে না।"
আপনি কি তখন স্বস্তি পাবেন?
নাকি লোকটার অপরিচ্ছন্ন চেহারা দেখে সিঁটিয়ে যাবেন,
ভাববেন— কোনো এক উৎপাত এসে জুটল বুঝি!
কিংবা ধরুন আপনি এক গভীর অরণ্যে পথ হারিয়েছেন,
সূর্য ডুবে গেছে, বন্য পশুর ডাক কানে আসছে।
ভয়ে আপনার পায়ের তলার মাটি কাঁপছে।
কাউকে পাশে পাচ্ছেন না যাকে শক্ত করে ধরা যায়।
এমন সময় হঠাত এক জরাজীর্ণ বৃদ্ধ লণ্ঠন হাতে নিয়ে
আপনার সামনে দাঁড়িয়ে যদি বলে;
"ভয় নেই পথিক, হাতটা ধরুন, আমি পথ চিনি।"
তখন কি তার হাতটি ধরে অরণ্য পার হবেন?
নাকি ডুবন্ত সূর্যের শেষ আলোয় তাকেই সন্দেহ করবেন,
আর অন্ধকারের গহ্বরে নিজেকে বিলীন করে দেবেন?
আসলে মানুষ চেনা বড় দায়,
কখনো কখনো দেবদূতরা আসে অতি সাধারণ বেশে—
আপনি কি পারবেন তাদের সেই মলিন হাতটি ধরতে,
নাকি শ্রেষ্ঠত্বের অহংকারে পিষে দেবেন এক আগন্তুকের অস্তিত্ব!

©অচেনা আগন্তুক
২৯ চৈত্র ১৪৩২ বাংলা
১৩ এপ্রিল ২০২৬ ইংরেজি
মঠবাড়ীয়া, পিরোজপুর।


১৩-০৪-২০২৬
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্য যোগ করুন

কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।

মন্তব্যসমূহ

এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।