ময়মনসিংহের ভেজা উচ্চারণ
- ফারহান নূর শান্ত

ময়মনসিংহের ভেতর আজ,
বৃষ্টি ঢুকে গেছে নিঃশব্দে।
গাঙিনাপাড়ে জমে আছে
কারও না-পড়া চিঠির মতো জল।
যেন নাম ধরে ডাকছে,
আমার শহরের পুরোনো কোনো বিকেল।

তাজমহল রোড আজ দর্পনের মতো,
হাঁটলে নিজেরই ভেজা মুখ দেখা যায়।
ষ্টেশন রোড প্রতিদিনই বিদায় দেয়,
এখানে ট্রেনের চেয়ে বেশি ভিজে থাকে অপেক্ষা।
প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে থাকা চোখগুলো জানে,
ফেরা মানেই সবসময় ফিরে আসা নয়।

বড় মসজিদ রোডে আজানের সুর,
বৃষ্টির গায়ে লেগে নরম হয়ে আসে।
তবু, প্রার্থনাগুলোও বৃষ্টি ভেদ করে,
আকাশ পর্যন্ত পৌঁছে যায় ঠিকমতোই।

স্বদেশী বাজারে টিনের চালে শব্দ জমে ,
ঝমঝম, ঝমঝম। বাজার জমে ওঠে।
তার ভেতরেই হারিয়ে যায় দরদাম,
শুধু থেকে যায় দু’একটা অসমাপ্ত গল্পের গন্ধ।

দূর্গাবাড়ি রোডে ঘণ্টা বাজে ধীরে,
সেই শব্দ নেমে আসে বুকের গোপন গলিতে।
শিববাড়িতে ধূপের ধোঁয়া বৃষ্টির সঙ্গে মিশে,
একটা অদ্ভুত ভেজা সন্ধে বানায়।
যেখানে ঈশ্বরও ছাতা ফেলে,
মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে ভিজতে থাকেন কিছুক্ষণ।

হৃদয় এখানে সরু গলি,
রিকশা ঢোকে, আবার বেরিয়ে যায়।
শুধু তুমি একবার ভিজে এসে দাঁড়াও,
সব রাস্তা হঠাৎ করেই,
তোমার দিকে বেঁকে যাবে।

এই শহর বুকজল লুকোয় না।
আমি দাঁড়িয়ে থাকি গাঙিনাপাড়ে,
জল আর স্মৃতির মাঝামাঝি কোথাও।
ভাবি, তুমি কি এ বৃষ্টিতে কোনোদিন
আমার নাম ধরে ডাকবে?


২৮-০৪-২০২৬
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্য যোগ করুন

কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।

মন্তব্যসমূহ

এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।