"আমি মানুষ...সাধারন... একিরকম সবার মত"
- আরিফুল হক - অপ্রকাশিত

শৈশব-
আধুনিক আঁতুড়ঘরে প্রচন্ড অভিমানে প্রথম কান্না তোমার-
..................যেন চাওনি করতে প্রবেশ-
জলের ভেতরে সাঁতারেই ছিলো তোমার সুখ!
আঁধারের কি দারুন- আলোছায়া শান্তি! অন্যরকম আবেশ!
......... ভুমিষ্ঠ হলে হে-
.........এবার নতুন পালার শুরু!
কোলেপিঠে করে এহাতে ওহাতে ঘুরে ফিরে তুমি উঠলে
বেড়ে! মায়ের আঁচলে তোমার দিন চলে যেতো বেশ!
হাঁপানির প্রকোপ ধরেছে?.....উঁহু হামের গুটি লাগে যেন!
-আরে ওসব সান্নিপাতিকের লক্ষন!
একটা হাঁচি! বুক ধরফর করে- হেঁটে গেলে দুপা আধো বুলিতে
পিতামহ হাসে- দাদুভাই আমার বড্ড পাগল!
শিশুকাল তোমার খুলে দিলো আগল- শৈশবের দরজার!
প্রথমে জানালা, পরে দোর খোলা... গুটি গুটি পায়ে
ঘাসের স্পর্শে শুনেছিলে -
.................................ধরা ডাকছে আয়!...............
কৈশোর-
কৈশোরে সব অকালবোধনে শোনেনি তোমার কথা......।
চারদিকে সব হঠাত কেমন প্রতিপক্ষের মত আলুনি করে ডাকে...
তুমি দিশেহারা ছিলে বয়োসন্ধির বাঁকে!
ডানপিটে দিন রোদের ভেতর, ঝিলের জলে, গাছে শাখায়, দূর প্রান্তের মাঠের মাঝে...... কাদাগোলা জল... শরীরে কেমন
অন্য-সুরের টান! ভেতরে জাগে বয়েস-
আলুথালু চুল, চকিত চোখের কাজল বিধেছে নিপাট ছুড়ির ডগায়
বুকের ভেতর চিনচিনে ব্যথা...... ও কি করে অমন তাকায়!
অধরা সব কথা, মাথের ভেতর চেঁচায়, ঠোঁটের মুখে কুলুপ!
চকিত চোখের হাসিময় রেশ......ছিন্ন হয়েছে বিকেলের সুখ
এ কেমন অসুখে, কিসের জন্যে মরি!
চারিদিক অন্যরকম তাকায়, চারিদিক অন্য আলোয় ভাসায়!
বুঝিনি তখন কিসের আশায়...
যৌবন দূরে ডাকে ইশারায়...... তরুন কচিপাতা বিবর্ন এ ধরায়
কেমন একাকী! হ্লুদাভ রোগ ধার করে গায়ে মাখি!
যৌবন-
দুটো শার্ট, একটা প্যান্ট, একজোড়া জুতোর বাহারি হাসি
বাঁকা রাস্তাগুলো একিভাবে হাসে, যেন শহরের কেনা দাসী
পকেটে একটা ভাঙ্গা সিগারেট, অলস সময়ে ঝিমধরে কথা
চোখের মাঝে পোড় খাওয়া দিন শুরু,হতাশার জোর ব্যথা!
চারিদিকে সব ছুটছুটি করে চাকুরে,বনিক-ইঁদুরের একপাল,
সহনের সীমা শেষের দিকে, বেহালে ঘুরি এমন হয়েছে হাল!
তুমি শক্ত, তুমি ঋজু, তুমি বিদ্রূপে শিখেছো বাহারি মিথ্যে
তুমি দেশান্তরী হতে চাও, তুমি অসুখী হয়েছো! যাও যুদ্ধে!
যৌবনে এক দিশেহারা যুবক, কদলী কান্ডের লোভে- কাম
ভালবাসা ফুরানো আবেগ, সহসা উন্মোচিত ভন্ড ধরাধাম!
পৌঢ়-
ছোট ছেলেটির স্কুলের ব্যাগ, বড় মেয়েটির সালোয়ার
গিন্নির আবার হাঁপানি বেড়েছে-
জনকের চশমার নতুন ডাঁটি অবসরে হবে সারাতে! নিজেরও
রক্তের উচ্চচাপে- মাঝে মাঝে কেমন আঁধার দেখে, শক্তি
পায়না আর- যৌবন ফুরালো নাকি?
ফুরিয়ে যাচ্ছে আয়ু, ফুরিয়ে গেলো সাধ! অবাধে কেমন পুরোনো
দিনের স্মৃতি চলচ্চিত্র হয়ে যায়!
দিন যায়, যায় মাস...... বছরের ইতিকথা ফুরানো প্রহর-
জীবনের ঘানি...... আশা ভেঙ্গে ভেঙ্গে খাওয়া!
যাওয়ার সময়ের শুরু- ভুলে খেয়েছে সব......... সারা জীবন-
ভুলের বৈভব!
সারাটা জীবন চকিত চোখের আফসোসের উৎসব!
খাটিয়া-
অনেকদিন আগে হাড়িয়া খেয়েছিলাম... খেয়েছিলাম রাজভোগ
চোখের সামনে ভাসে মায়ের হাতের বালা......।
কি সুন্দর সে রঙ, শালদুধের গন্ধ কেমন ? মনে নাই......।
কিংবা প্রথম সম্ভোগ! মানবীর শরীরের গন্ধ!
অথবা আমার শিশুর গায়ের গন্ধ, কেমন সোঁদা সোঁদা!
আলেয়ার খেলা ভাসে চোখে, খাঁখাঁ করা মাঠে গভীর রাত্তিরে দেখা
আজ বঞ্চনার দিনগুলো ঝাপসা, সুখের জন্যে কাঁদি,
ইচ্ছে করেনা যাই, অথচ খাটিয়ায় ঊঠেছি,
গহীনে যাবো, শেষে, গহীনেই ঘুমাবো আমি.........


০৬-০৬-২০২৩
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্য যোগ করুন

কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।

মন্তব্যসমূহ

এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।