“একাকীত্ব”
- আরিফুল হক - অপ্রকাশিত
আমার ফুস্ফুসে দাগ পড়ে গেছে অনেক আগেই,
শ্বাসের বাজারে দুর্মূল্যের বড়াই,
কাঁধে কড়া পড়ে গেছে না দেখা জোয়ালের ভার- আমি ক্লান্ত!
চারিদিকে যান্তব চিৎকার, যন্ত্র-শকট, কারখানা,-
কুঠুরীতেও কেমন নিঃশব্দের চিৎকার-
-কানে বড় বাজে! -
বড় একাকী দিনে দর্শনের ভাঁজ হাতরে খুঁজি,
-হাতরে খুঁজি সময়!
একটা শার্ট, দুটো মোজা, কাধের গামছা,
...............অথবা জংলাছাপার তোয়ালে
পটলের সাথে মাছের ঝোল, সাথে হুমড়ি খেয়ে পড়া মোপাসার গল্প!
.........সারাজীবন ধরে এই একাকী সময়ের দাম চুকিয়েছি-
-অক্ষরের বিনিময় করে!
প্রানের ভেতরে পাক খেয়ে ওঠা মাত্রাছাড়া আক্ষেপ
...... ধুলোয় গড়াগড়ি করে হেসে ওঠে শিশুর মত!
......ভেবেছিলাম আমিও কোনদিন সরব আড্ডায় হব উচ্চকিত-
উল্লসিত, প্রাঞ্জল- হয়নি!
..................কি আমাকে দিয়ে গেলে যে
............পুরোনো রোগের নাম না জানা-
ওষুধের খোঁজে বিশীর্ণ কবিতার পাতা ফুলেফেঁপে ঊঠছে!
............দিগ্বিদিক হাহাকারে হাসে, আমি নিরব...............
নোনা জলের বান দেখেছি কাজল দিঘীর বুকে
... আমার ইচ্ছে হয়নি শুষে নেই...কেউ ভাবে পাষান!
-বোশেখ মাসের পা ফেটে যাওয়া পথের বুকেও
-ইচ্ছে করে না হেঁটে যাই
বাউলে বাতাসে গাঁ পুড়িয়ে ইচ্ছে করে না-
..................ঠান্ডা হই কচুরীপানার নিচে!
.....................কি এমন দিয়ে গিয়েছিলে আমার না-বোঝা দর্শন? .....................মানবজন্মের এই কি দায়?
.....................নাকি জীবের সারিতে প্রথমদিকের
...প্রানের উল্লাসেই সব শেষ!...
-কি এমন বাছবিচারে খাদ্যশৃঙ্খলের শীর্ষেই থাকি আমি!-
...........................কেন সিংহের হাতেই মরেনা মাসাই সর্দার!
-কি এমন বিরহে কাল কেটে যায়,
.....................কেটে যায় উৎপাদনহীনতায় ভরা প্রহর...
-কার নেশায় গান গাই!-
কোন প্রহেলিকার আশে এমন বিলাসে করি কবিতার উপাসনা!
...... নাকি এই আমার ভাগ্য,
এই আমিই এরকম দিনের জন্যে ছিলাম হন্যে!
-নাকি আমিই দর্শন!-
..........................................আমিই করি তৈরী আমার-
নির্বিচারে বুনে যাওয়া সীমাহীন একাকীত্বের-
... বাগেশ্রী রাগের ধুন......
০৬-০৬-২০২৩
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্যসমূহ
এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।

মন্তব্য যোগ করুন
কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।