"অনিদ্রিতা শুনে যেয়ো"
- আরিফুল হক - অপ্রকাশিত

তুমি সময়ের দখল নিয়েছো, বেশ ঝঞ্ঝার মত কাল
বিরান চর যেমন দখল করে লাঠিয়াল-সর্দার,
সময়গুলো ঠিক আর আগেরমত নেই,
শুনেছি তোমারও সময় খুব দরকার!
দরকার তো আমারও ছিলো- কিছু কথা,গাল ফুলানো অভিমান,
চূর্নকুন্তলের ভিজে দোল,
চোখে যেন জমে ওঠা একবিন্দু জলের দোলনায় দুলুনি,
আমার ছিলো প্রয়োজন,
হিসেবখাতা তোমার রকমারী দিনের হিসেব...
এখানে গেলে কি হবে! ওখানে কিসের-দোলায় ভুল করেছি!
কার মন ভেঙ্গে কার মন করেছি ছিনতাই!
কার ভালোবাসায় যন্ত্রনাতে মুখ লুকিয়ে প্রার্থনা-
অন্যকারো ভালোর;......তোমার হিসেবের খাতায়ও ভুল...
তিলেতিলে গড়া তোমার বাঁধ দেয়া সংসারে আজ ফাটল
বিশ্বাস কর- এমন আমি চাইনি, এমন করে কেই বা চায়-
জলজ্যান্ত কর্কট বিছে দেহের রক্তের শিরাগুলোকে চুষে
.........পিষে একাকার করে দিলো,
জানো, তবু ইচ্ছে করেনা কই;
অনিদ্রিতা,
তোমার বুকের ভেতরে ঐ ধুকপুক শব্দের বড় কাঙ্গাল হয়ে
এদিকে একাকী তপ্ত রোদের সাথে করি লড়াই!
তুমি বুঝে- বুঝে ওঠার আগেই তোমার ঘরের ছাদ ফেটে দুর্দম-
ইচ্ছেগুলো বেড়িয়ে হাহাকারের মত,
প্রান্তরে শামুভাঙ্গার-ডাক শুনেছো?
তেমনি,হারিয়ে গেলো তোমার অবিশ্বাস একি বিশ্বাসের পথ ধরে,
যে পথে আমি হাটছি এই কিছুদিন হলো,
যে পথে হেঁটে গেছে কোটি মানুষের দল,
কাঁধে দায়িত্ব আর বুকের মাঝে লুকিয়ে রাখা লিপ্সা,
লিপ্সাই হবে হয়ত,নয়ত কিসের আশায় মানুষ আত্মাহুতি দিয়েছে
মানস সরোবরের ঠান্ডা জলে,
ছেঁচড়ে টেনে নিয়ে গেছে মনন,মন,আর অহম!
কিসের জ্বালায় পড়ে পুড়েও হয়নি ক্ষান্ত রাতজাগা কবিদের দল!
তোমার দেয়ালে ফাটলের দাগ দেখেছি,
দেখ আমার দেয়ালেও খসে পড়া আস্তরন-
ভেতরের ইটের মুখে আত্মভিমানের বড়াই......
অনিদ্রিতা, শোন...
এবারে তুমি ঘুমাও, অনেক হলো রাত,
অন্যকোন গ্যালক্সিতে বসে বসে আমি পাঠিয়ে দিচ্ছি তোমায়
কোন হঠাত করে গাওয়া ঘুমপাড়ানী গান!
অনিদ্রিতা তুমি ছিলে আমার প্রান!.........


০৬-০৬-২০২৩
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্য যোগ করুন

কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।

মন্তব্যসমূহ

এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।