"গৃহত্যাগ অথবা জনপদ"
- আরিফুল হক - অ

গৃহ ছেড়েছি হঠাত করে নয়, বাস্তুভিটার মায়া,
ঘরের মধ্যে ঘরের আলিঙ্গন, ব্যথার উপশমের জায়গা;
একে একে- সব ছেড়ে দিয়ে পথের দরজায় দাঁড়িয়েছি,
না! সন্ন্যাসী হবার দাপুটে ইচ্ছে আমার নেই!
উচ্ছিষ্ট বর্জ ঘেটেঘেটে শরীরে জমেছে-
ক্লেদের কৃমি! ভেতরে ভেতরে মাংসপিন্ডের তাল-
কেমন ফাঁপা লাগে এখন!
যকৃতের সাথে আড়ি দিয়ে বহুদিন তো চললাম!
এবারে দিক ঠিক করে বেড়িয়ে-
যাবো দেখি; কোন পাহাড়ী নদীতে গেলে কেমন হয়?
অথবা,কঠিন কোন গিরিশৃঙ্গের কার্নিশে করি হাতের মকশো!
-সমর্পনের দিন শেষ!-
বৈদিক শাস্ত্রের গহীনে যেমন ডুব দিয়েছে-
অনেক পুরোহিতের পিতামহ...
তেমন সমর্পনের বালাই আমার নেই, আমি সমর্পন জানিনা,
মসজিদের ভেতরেও মসজিদ থাকে... অন্তরের ভেতর অন্তর
প্রান্তর পেরিয়ে গেলে আবার প্রান্তরের দেখা পাবো না-
এমন কসমও কেউ দেয়নি!
জনজঙ্গলের ভেতরে শ্বাপদশংকুল কেচ্ছা শুনিয়ে যায়-
অনেক বাহারী গল্পকথক!
.........কথকতার ঢং বড় বেসামাল!
যেমন আব্রু হরিয়ে বে-আব্রু ঢঙ্গী-
বেশ্যাদের দল মুচকী হাসে তেমন করে! তাও তাদের কথায়-
শরীর জেগে ওঠে কারোকারো!
আমারে টানে রূপকথা! এই কত্থকদের দল জ্বালা বাড়ায় শুধু!
..................গাঁয়ের বুকেও শহর উপগত-
হয়ে রেখে গেছে তাঁর অনাগত বেওয়ারিশ!
এখন গাঁয়ে ভর দুপুরে ঘুঘুর ডাক ঘুঙ্ঘুর হয়ে গেছে!
ছোট বেলার তাল্পুকুর আর-
সন্ধ্যেবেলার কংকাবতী ঈশান কোনে কোন নিয়েছে!
ঊড়ে গেছে দক্ষিনে সাইক্লোনের সাথে সাথে! আমার আর গৃহী
স্বাধের বোঝা টানতে ইচ্ছে হয়না!
উত্তরসূরিরা কান পেতে শুনবে আমার প্রায় মিলিয়ে যাওয়া পদধ্বনি!
...ওঁ-কার ধনির মত না হলেও ঝিমঝিম ধারার তাল!
বহেরা বৃক্ষের নিচে ছায়াহীন কোন এক প্রত্যন্ত বিজনে-
বসে সার্ধ-জীবনের দর্শনের অভীক্ষা খুঁজে ফিরবো নাহয়...
পুরবাসীরা ক্লান্তক্ষনেও চাইবেনা ফিরে আমার জন্যে;
আমার আজ গৃহত্যাগের দিন;
আমার আজ সন্ধ্যেআলোয় গোধূলি চুরির দিন!
আমার আজকে হিংসে-ছটায় উত্তুরে হাওয়ার দিন!
ধধংস যখন হবোই... হতেই যখন হবে...
গোলাঘরে আগুন লেগে অন্ন যখন যাবেই......
তখন গৃহের কোনে নোংরা খেকো ইঁদুর হবো না!,
আমার আজকে পদব্রজের দিন!
ছিন্ন দু'পা এগিয়ে গিয়ে আজকে আমি পৃথিবীতে লীন!


০৬-০৬-২০২৩
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্য যোগ করুন

কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।

মন্তব্যসমূহ

এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।