"অষ্টাবক্র"
- আরিফুল হক - অপ্রকাশিত
অষ্টাবক্র এক বৃদ্ধ, বসে আছেন, জবুথবু আয়েশে,
চোখে তাঁর অতীত দেখা যায়, ছানি পড়া ঘোলাটে,
মুখমন্ডলের বক্র রেখাগুলো গতশতাব্দীর ভেসে
বেড়ানো মানুষের চরিত্রের মত আঁকাবাঁকা! হাতে
ভেসে ওঠা শিরাউপশিরা রাজপথের অদম্যরাগে
ফেটে পড়া সংগ্রামীর মত করছে চিৎকার,কেউ কি
করবে সৎকার ইনি যদি আজ যান মরে! নাকি লাশ
দেখে হবে ভিড়, পথচারীদের কিছু আহা উঁহু, আহারে
কিভাবে মরে পড়ে আছে দেখো! শিশুর কৌতুহল;
বাবা হাত টেনে নেবেন সরিয়ে," ওখানে যায়না বাবু"
ওখানে যে পাপ মরে পড়ে আছে, ওখানে যে পড়ে
আছে তোমার আমার ব্যর্থতার মুখ ব্যাদান করা হাসি!
বৃদ্ধ নড়েন, বুড়ো সরিসৃপের মত,
গ্রীবার সঞ্চালনে নড়ে ওঠে কানের লতি,
যতি চিহ্নের মত তাঁর তাকানো থেমে থেমে,
বৃদ্ধ হাসেন-
ভেঙ্গানোর মত করে, যদি তাঁকে হাসি বলা যায়,
কি লুকোনো আছে ওখানে? কি!
আচ্ছা!
শেষ কবে তাকিয়েছিলেন তিনি কোন নারীর মুখের দিকে?
শেষ কবে লুফে নিয়েছিলেন ছোট্ট শিশু।
উপরে ছুঁড়ে দিয়ে,
শেষ করে দ্রুত ফিরেছিলেন ঘরে নবরাত্রীর রাগ-
অনুরাগ সব মিশিয়ে দিতে রাত্রিজুড়ে!
কোন পাললিক ভেজা হাওয়ায় শুকিয়েছিলেন
একমাত্র বস্ত্র!
-মনের কোনে ভেসে উঠেছিলো ফসল!-
চালতা গাছে পাতায় কবে উঁকি দিয়ে গিয়েছিলো দুপুর?
কিংবা বুড়ো আংগুল গেঁথে গেঁথে বর্ষারাতের ফেরা!
বৃদ্ধ চলেন ফেরেন, ঘোরেন, হাসেন,
বক্রপিঠে বস্তা ধারন,
লালচে আটার রুটি,
রাস্তাবয়ে ল্যাগব্যাগিয়ে
তিনি স্বপ্ন দেখেন,
স্বপ্নকোলে ডিমের সালুন,
সজনে ডাঁটার ডাল,
বুড়ো মরে না কেন?
চোখে সাধে ঘোলা অতীত,
বুড়ো যায় না কেন!
বৃদ্ধ ঘরে ফেরেন.........ঘরকে যদি ঘর বলা যায় তবে,
বুড়ো কালচে ঠোঁটে ফোকলা দাঁতে
তিতকুটে এক পুঁটির আশায় জাগেন,
বুড়ো যাও তো মরে!
ভাল্লাগেনা নিজের দিকে তাকাতে আর,
যাও না মরে!
যন্ত্রনাতে জাঁক দিয়ো না, পচবে পাটের মত,
ওহ্যা তুমি পাটের স্বপ্নও দেখো?
বুড়ো এবার মরবে পেছন পটকে!
বুড়ো কালকে কোথায় যাবে?
তুমি কাল বিকেলে বসবে আমার সাথে?
আমার সস্তা মদের ডেড়ায়;
বুড়ো, মদ খেয়েছো?
বুড়ো, হাত ধরেছো?
বুড়ো, প্রেম করেছো?
বুড়ো এবার এসো গল্প শোনাও,
গালপেতে হাত তন্দ্রালু চোখ,
চন্দ্রালী খেয়ার বুকের মধ্যে ডুরে শাড়ী,
কিংবা কোষা নৌকা,
বুড়ো এবার তুমি বলতে পারো?
.........কবে তোমার মত হবো!
০৬-০৬-২০২৩
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্যসমূহ
এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।

মন্তব্য যোগ করুন
কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।