ভস্মীভূত ভালোবাসার পদাবলী
- প্রসূন গোস্বামী

আজ আমি কালের তরে লিখছি।
শ্মশানঘাটের চিতার ভস্মমাখা নীরব আঁধারে দাঁড়াইয়া আমি কহিলাম,
‘যা কিছু পুড়ে ছাই হয়, তারও কি কোনো অলীক স্মৃতি র’য়ে যায়?’
তুমি কহিলে, ‘মোহ ও মায়া।’
দূরে শঙ্খধ্বনির করুণ গুঞ্জন।
কালচক্র ধেয়ে আসে।
আমার তো তবে পৌঁছাতেই হবে সেই অনন্তের তীরে। শীঘ্র করি।
তারপরে বিলীন হতে হবে ধীরে,
চলে যেতে হবে সকল বন্ধন ছাড়ি অন্য অভিমুখে।
আমি তাই ভস্মতলে দাঁড়াইয়া লিখছি,
‘তোমা লাগি মোহ রাখি, মায়া ধরি চলিলাম নির্বাণ-ধামে।’
শ্মশান-আঁধারে আমার সত্তা তখন কাঁপে।
আর তুমি কহিতেছ, ‘ও কম্পন নহে, এ তো আত্মদহন।’
– দহন কেন তবে?
– কারণ মোহশূন্য আত্মা জানে কতটা সে একা আর অসত্য!
– কিন্তু তুমি?
আমি বিস্ময়ে দেখিলাম, কোথাও তুমি আর নাই।
অথচ তোমার মায়া মিশে র’য়ে গেল মোহের গভীরে।
সেই ক্ষণে প্রথম আমার মনে জাগিল,
‘এই সংসারে কত কত রূপ, অথচ সকলই অস্পষ্ট আমার নয়নে।
কিন্তু এই তুমি কী ভীষণ সত্য!’
আমি চলিতে উদ্যত হইয়াও তাই মোহ ধরিলাম মায়ার বন্ধনে।
কারণ আমি তো বরবাদ হতেই ভালোবেসেছি, এ জন্মের তরে নয়।


১০-০৪-২০২৫
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্য যোগ করুন

কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।

মন্তব্যসমূহ

এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।