অদ্ভুত গাড়িতে অদ্ভুত স্বদেশ
- প্রসূন গোস্বামী

নেত্য চলছে, সিঁড়ির ধাপে ধুলো জমে,
একটা ফাঁকা বোতল গড়িয়ে পড়ে মেঝেতে,
বুকের ভিতর এক গোপন অ্যালার্ম বাজে,
যেন কেউ ডাক দিয়েছিল—"জাগো!"
তবু ঘুমের নেশা গাঢ়, চোখের কোণে অন্ধকারের দাগ।

আকাশ ভরা চিলেকোঠার নীলচে সিমেন্ট,
পলিথিনে মোড়া এক চিঠি ভেসে যায় ড্রেনের জলে,
অশ্বত্থের ডাল ঝুঁকে পড়ে বাতাসে—
সব যেন এক সুরে বাঁধা, আর তবু সুরের অভাব।
একটা ছেঁড়া শার্ট মেরামতের জন্য
কোনো দরজার বাইরে ঝুলছে,
তার পাশ দিয়ে যায় একটা হলুদ ক্যাব,
আর তার ছায়ায় দাঁড়িয়ে
এক অদ্ভুত মুখ—অবিকল স্বদেশের মুখ।

রান্নাঘরের দেয়ালে জ্যোৎস্নার দাগ,
একটা ছুরি চেঁচে ওঠে আলুর খোসায়,
গ্যাসের শিখায় মরে যায় আরেকটি আলো।
অদ্ভুত হাওয়া আসে দূর থেকে,
এক বৃদ্ধের পায়ের আওয়াজ, এক সাইকেলের বেল।
আর কে যেন বলে—“সময় নেই!”
তবু হাতঘড়ি কাঁদে চুপিচুপি।

একটা পার্কের ভেতর অর্ধেক খাওয়া বিস্কুট,
সেখানে ঘাসের গায়ে ঘুমোচ্ছে একজন,
তার কপালে লেখা এক স্বপ্ন—অপূর্ণ,
আলগা বাতাসে উড়ছে।

হঠাৎ কোলাহল—
কেউ ছুটছে, কারো হাতে বস্তা,
কোনো কণ্ঠস্বর ভাঙে, ঢেউ হয়।
কোনো গাড়ি থামে না, কোনো সিগন্যাল খোলে না।
আকাশের শিরদাঁড়া বেঁকে পড়ে,
রাস্তার ধারে বসে থাকে এক ফেলে-যাওয়া ছাতা।

তবু থামে না পথচলা।
অদ্ভুত যাত্রা চলেছে, অদ্ভুত গাড়িতে,
সড়কের গায়ে লেখা অদ্ভুত স্বপ্ন,
অদ্ভুত মানুষের মুখে অদ্ভুত বাক্য,
অদ্ভুত হাসি, অদ্ভুত কান্না,
অদ্ভুত সব মিলেমিশে এক অদ্ভুত জগৎ,
অদ্ভুত গাড়িটার পিছনে ছুটে চলেছে অদ্ভুত স্বদেশ।


১৮-০৭-২০২৫
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্য যোগ করুন

কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।

মন্তব্যসমূহ

এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।