নক্ষত্রের ফসিল
- প্রসূন গোস্বামী

কোথাও কি পথ ছিল? নাকি ছিল শুধু দীর্ঘ ধূসর পান্ডুলিপি?
কলকাতা—তার কঙ্কালময় ট্রামের ঘর্ঘর, শতাব্দীর ক্লান্ত কোলাহল।
ইতিহাসের চোখে আমি দেখেছিলাম এক ঈষৎ-নীল স্বপ্ন,
ধানসিঁড়ির জলে ভেজা কিশোরীর চুলের গন্ধের মতো সহজ সত্য।

ট্রামের ফাটলে—ঐ মন্থর লোহার নিচে—
মৃত্যু কি অপেক্ষা করেছিল কোনো সন্ধ্যার ধূমায়িত আলোয়?
নয়তো প্রেমিকা—শবের মতো শুয়ে থাকা নিরপেক্ষ মহানগরীর
জীর্ণ ফ্যাকাশে দেয়ালে স্বাদহীন জীবনের ইস্তেহার এঁকে।

সেদিন অন্ধকার ছিল না, ছিল শুধু হলুদ পাতার নীরবতা;
বিপন্ন বিস্ময় নিয়ে তাই তাকিয়েছিলাম অন্ধকার নক্ষত্রের ফসিলের দিকে।
শঙ্খচিল ডাকেনি—ডেকেছিল ইতিহাসের প্রেত—
আর বিমূর্ত এক নিসর্গ, যেখানে জীবন কেবলই এক নিছক মায়াবী ভুল।

আজও কি হাঁস ভেসে যায় কোনো আলো-নিভে-যাওয়া পুকুরে?
মৃত্যু এসেছিল নিছক দৈবের মতো—কিংবা বাঙালির নিয়তির মতো সরল—
তার জন্য কোনো উপমা ছিল না—ছিল শুধু এক শীতল, পুরনো গোধূলি।
তাই ট্রামের চাকার নিচেও—আমি কেবলই খুঁজেছিলাম—শাশ্বত বাংলার মুখ।


২৩-১০-২০২৫
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্য যোগ করুন

কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।

মন্তব্যসমূহ

এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।