রূপসির প্রতি দুঃসাধ্য প্রণতি
- প্রসূন গোস্বামী

তুমি আমার হিরন্ময়ী নিরুদ্দেশ;
যে-বিষে নীলকণ্ঠ—
সে-বিষেই আজন্ম পিপাসা।

হে রক্তকরবী-তনু,
নক্ষত্র-ভাস্বর ললনা,
তোমার ঐ সাক্ষাৎ তিলোত্তমা বিভঙ্গি—
ঐ সুবিন্যস্ত ভূকম্পন—
সহসা স্তব্ধ করে দেয় আমায়।

আমি অগ্নিবীণার সুর,
তুমি অচেনা মন্ত্রপুত তার ছায়া;
তোমার ওই শর্বরী-চোখের মায়াবী আভায়,
নিশীথের মতো গভীর এক দুর্জ্ঞেয় অভীপ্সা আমার।

জানো কি, হে কিন্নরী—
আমি ধূলিধূসরিত বটের ঝুরি,
তোমার ওই মৃণাল-বাহুর আলিঙ্গনে চাই মুক্তি—
সেই মুক্তি যা মৃত্যুঞ্জয়ী;
নিবিড় এক অনির্বচনীয় লগ্ন।

তোমার অতলস্পর্শী রূপ—
আমার বুকে অন্ধকারে প্রলুব্ধ জোনাকি;
আমি তোমার নিরাসক্ত পদতলে
উপবিষ্ট এক নির্বাক বৈরাগ্য,
তোমার প্রেমের অমৃতধারা ভিক্ষা করি—
প্রতিটি শ্বাস-প্রশ্বাসে
আমার কষ্টার্জিত আত্মসমর্পণ।

তুমি সুরভিত দুর্মূল্য পাথর—
সে-সংবাদ তুমি রাখো না;
আমি আজীবন শুধু
তোমার ঈশানকোণের অগ্নিহোতা।

তোমার আহ্বানহীন প্রত্যাখ্যান—
আমায় করে তুলুক
আরও দুর্ভেদ্য,
আরও উদাসীন চিরন্তন।


০৮-১১-২০২৫
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্য যোগ করুন

কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।

মন্তব্যসমূহ

এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।