গোপন চিঠির ভাঁজ
- প্রসূন গোস্বামী

তোমার দু’পাশে যারা সারাক্ষণ ভিড় করে—
আমি তাদের মতো নই।
আমি জানি, সব কথা সবাই জানতে পারে না…
জানানো উচিতও নয়।

তুমি তো জানো—
বাজার-চলতি সত্য আর একান্ত গোপন সত্য—
এ দুটোর ফারাক আকাশ-পাতাল।

যদি বলি—
কাল রাতে পুকুরপাড়ে চাঁদটা আসলে একটা বাসি রুটি ছিল,
লোকে হাসবে।
কিন্তু আমি তো জানি,
তোমার কাছে সেটা পুরোনো একটা ডায়েরির পাতা।

শোনো—
তোমাকে সব কথা জানাব।
ঠিক জানাব।
তবে সেটা এখন নয়…
এই হট্টগোলের মধ্যে তো নয়ই।

এরা ভাবছে, আমার পকেটে যে রুমালটা আছে,
সেটা স্রেফ ঘাম মোছার জন্য।
আসলে তো তুমি জানো—
ওটা একটা সাদা পতাকা,
যা আমি সময় বুঝে তুলব।

যখন দেখব—
তোমার ভেতরের সবুজ বারান্দাটায় একটুও রোদ নেই,
কেবল এলোমেলো অন্ধকার পাতা ঝরছে—
তখন।

আজ যদি বলি, আমার সর্দি হয়েছে,
তুমি সেটা ডাক্তারির খাতা-পত্তরে লিখে রাখবে।
কিন্তু যদি বলি—
আমার ভেতরের নদীটা হঠাৎ শুকিয়ে গেছে—
তা কি এরা বুঝবে?
না, বুঝবে না।
এরা শুধু জলের মাপ জানতে চাইবে।

তোমাকে জানাব।
সব কথা জানাব।

যেদিন দেখব—
এই যে সামনে লজেন্স-রঙের দালানটা দাঁড়িয়ে,
এটা আসলে একটা কাগজের নৌকা—
যা কেবল ডুবতে জানে,
ভেসে থাকা তার ধাতে নেই—

সেদিন তোমাকে ফোন করব না,
এসএমএসও নয়।
শুধু তোমার রান্নাঘরের জানলায়
একটা শুকনো গোলাপের পাপড়ি ফেলে যাব।

তুমি বুঝবে।

কারণ তুমি আর আমি—
এই পৃথিবীতে একমাত্র দু’জন লোক,
যারা জানে—
একটি খালি চায়ের কাপের তলাতেও
লুকিয়ে থাকে একটি আস্ত সমুদ্রের
সব গোপন ঢেউ।

আর সেই ঢেউয়ের কথাই—
তোমাকে সব জানাব।
একদম সব।
কেবল একটু অপেক্ষা করো…


১৪-১২-২০২৫
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্য যোগ করুন

কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।

মন্তব্যসমূহ

এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।