এই বধ্যভূমির জ্যামিতি
- প্রসূন গোস্বামী

পায়ের তলায় মাটি নয়, যেন এক চিলতে শাণিত তলোয়ার
হিসাব কষলে দেখা যায়, কয়েক হাত জমি আর অনেকগুলো হাহাকার
ছাপ্পান্নর এই খাঁচায় আজ বড় বেশি নখ আর দাঁতের শব্দ শুনি
আমি কি মানুষ, নাকি কেবলই এক প্রাচীন ভুলের দিন গুনি?

আকাশের গায়ে আজ নীল নেই, কেবল ছোপ ছোপ কালির দাগ
কেউ একজন আঙুল তুললেই শুরু হয় উন্মত্ত যজ্ঞের অনুরাগ
যুক্তি সেখানে নির্বাসিত, কেবল কানাকানি আর অন্ধ বিচার
এক টুকরো অভিযোগই যথেষ্ট, ছিঁড়ে ফেলতে বুকের পাঁজর আর হাড়

এখন মাঝরাত্রে যখন উঠোনের কোণে কোনো দীর্ঘশ্বাস জাগে
বাতাস ফিসফিস করে বলে, ‘তোর ঘর পোড়ার সময় হয়েছে আগে’
পুকুরের স্থির জলে যখন প্রতিবিম্ব দেখি নিজের অবয়বের
শ্যাওলাগুলো বলে ওঠে, ‘এ মাটি শুধু শিকারীর, নয় কোনো তনয়ের’

আমি চলে যেতে পারি, ধুলোর মতো উড়িয়ে দিতে পারি এই দীর্ঘ আয়ু
কিন্তু কেন পালাব? কেন বিষাক্ত করব আমার শেষকার বায়ু?
একটি নিষ্পাপ হাসির ঠোঁটে যদি এখনো লেগে থাকে আগামী সকাল
তবে কেন আমি একা বয়ে বেড়াব এই কুৎসিত যন্ত্রণার আকাল?

যাব, নিশ্চয়ই কোনো একদিন এই ধোঁয়াটে কুয়াশা ছেড়ে যাব
কিন্তু একা কেন? এই অন্ধকারের নাটক যারা সাজায়, তাদেরও কি সাথে পাব?
অসময়ে নয়, আমি সময়ের পূর্ণতায় সবার হাত ধরে হাঁটতে চাই
যেখানে অন্তত অভিযোগের ছুরিতে কোনো শিশুর রক্ত লেগে নাই।


২২-১২-২০২৫
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্য যোগ করুন

কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।

মন্তব্যসমূহ

এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।