রক্তের ব্যাকরণ ও রাজকীয় জ্যামিতি
- প্রসূন গোস্বামী

রাজা মশাই, আপনার মখমলে কি আজও কোনো নতুন দাগ লাগেনি?
আগুনের জিহ্বা যখন পাড়ার পর পাড়া চাটছে অনায়াসে,
আপনি কি তখনো নস্যি ঘষে বাতাসের ঝিঁঝিঁ পোকা গুনছেন?
আমাদের পিঠগুলো এখন তন্দুরি রুটির মতো সেঁকা হয়ে গেছে,
চামড়া খসে পড়ার শব্দে কি আপনার বিকেলের ঘুমে ব্যাঘাত ঘটে না?

একটি খুলি চুরমার হলে আপনি তাকে বলেন—উল্কাপাত,
দশটি বুক ঝাঁঝরা হলে আপনি খেরোখাতায় লেখেন—ঋতু পরিবর্তন;
আর কতগুলো চিতা একযোগে জ্বললে আপনার মনে হবে এ কোনো উৎসব নয়?
কতটা ধোঁয়া নাকে ঢুকলে তাকে আপনি ‘ভোরের কুয়াশা’ বলা বন্ধ করবেন?

খুন যখন প্রতিদিনের প্রাতঃরাশে পাউরুটির মতো পরিবেশিত হয়,
তখন তাকে 'দুর্ঘটনা' বলাটা এক ধরণের শিল্প, তাই না রাজা মশাই?
আপনার দরবারে তো জ্যামিতির খুব কদর শুনি,
তাহলে মেপে বলুন—কতটা হাহাকার এক হলে তাকে আর ‘বিচ্ছিন্ন’ বলা চলে না?
নাকি লাশের পাহাড়ের ওপর দাঁড়িয়ে আপনি এখনো দিগন্ত খুঁজছেন?

সিংহাসনের পায়াগুলো যে মানুষের হাড় দিয়ে পালিশ করা—সে তো পুরোনো কথা,
কিন্তু ঘাম আর রক্ত মিশে যখন গঙ্গার জল আপনার মদিরা হয়,
তখন সেই নেশায় বুঁদ হয়ে থাকাটাই কি আপনার শ্রেষ্ঠ রাজধর্ম?
শুনে রাখুন রাজা মশাই, আগ্নেয়গিরি কখনোই বিচ্ছিন্ন কোনো স্ফুলিঙ্গ নয়,
সেটা দীর্ঘদিনের অবহেলায় জমে থাকা একটা জমাটবদ্ধ চিৎকারের নাম।

এবার তবে চোখ মেলুন, আপনার বাগানবাড়ি আজ শ্মশানের গন্ধে ম ম করছে,
আর আপনি ভাবছেন—এ বুঝি কোনো নাম না জানা বুনো ফুলের গন্ধ!
রাজা মশাই, এই নরকের মাঝখানে দাঁড়িয়ে আপনার ওই ‘বিচ্ছিন্ন’ শব্দটা—
এখন ঠিক এক টুকরো বরফের মতো বিস্বাদ আর গলে যাওয়া মিথ্যে ঠেকছে।


২৫-১২-২০২৫
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্য যোগ করুন

কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।

মন্তব্যসমূহ

এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।