জোনাকির নীল আত্মহত্যা
- প্রসূন গোস্বামী
বিরাট একটা দীর্ঘশ্বাস ঘড়ির কাঁটার মতোন ঝুলে আছে সদর দরজায়
অথচ তোমরা উৎসব করছ, চোর এসেছে বলে চারদিকে কী বিপুল আয়না-বিচ্ছুরণ
তার হাতের সিঁধকাঠি আসলে একটা রুপোলি বাঁশি, যা দিয়ে সে জ্যোৎস্না চুরি করে
তোমরা লাল কার্পেট বিছিয়ে দিলে, যেন তার চটিজুতোয় এই শহরের ধুলো না লাগে
আহা চোর! এমন মার্জিত ডাকাত তো আগে দেখেনি কোনো অন্ধকার বারান্দা
শুয়োর-মার্কা সিন্দুকে যখন সে হাত রাখে, মনে হয় কোনো ধ্রুপদী সেতার বাজছে
তোমরা থালা ভরে দিলে হিরে-মুক্তো নয়, বরং দিলে নিজেদের বুকের পাঁজরের নরম হাড়
চোর হাসে, তার হাসিতে জোনাকিরা সব একসাথে আত্মহত্যা করে নীল রক্তে
সিংহাসনে বসিয়ে তাকে যখন চন্দনের তিলক পরানো হলো মাঝরাতে
দেখা গেল তার পকেটে কোনো টাকা নেই, আছে কেবল কয়েকটা ছেঁড়া স্বপ্নের নকশা
শহরের যত পুলিশ তারা আজ নর্তকী সেজেছে ওই চোরের রাজকীয় ইশারায়
বাতাসে খুনের গন্ধ নেই, বরং আছে বেলি ফুলের মৃতদেহের তীব্র সুগন্ধ
চোর যখন চলে যাচ্ছে, রাজকীয় ঘোড়ায় চড়ে নয়, বরং একটা মেঘের পালক ছুঁয়ে
তখন আকাশ থেকে ঝরছে হাজার হাজার চাবির তোড়া, যা দিয়ে কোনো তালা খোলে না
শেষমেশ দেখা গেল রাজাও চোর, মন্ত্রীও চোর, শুধু সিংহাসনটা একা একা কাঁদছে
২৫-১২-২০২৫
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্যসমূহ
এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।

মন্তব্য যোগ করুন
কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।