মরণ-বিলাসী মাতাল
- প্রসূন গোস্বামী

মাঝরাতে কড়া নেড়ে বললাম, এই যে অন্ধকার, দরজা খোলো
জীবন তো অনেক হলো, এবার তোমার ওই হাড়-হিম করা জঠরে একটু জায়গা দাও
আমি জানি তুমি কালো, কিন্তু তোমার ওই আলকাতরা-রঙা চোখের গভীরে কী ভীষণ মায়া
যেন এক আদিম শ্মশান-বধূ, আমার পলেস্তারা খসা যৌবনকে ডাকছ ইশারায়
তোমার ওই পাণ্ডুর ঠোঁটে আমি চুমু খেয়েছি, দেখেছি ওটা কোনো মাংসের দলা নয়—বরং এক মহাজাগতিক স্তব্ধতা
আমার আঙুলগুলো যখন তোমার পাঁজরের খাঁজে খেলা করে, মনে হয় কোনো ভাঙা বীণায় সুর তুলছি
লোকেরা বলে কাম, আমি বলি এ তো এক অদ্ভুত রসায়ন—এক নেক্রোফিলিক মাতলামি
আমি মৃতদেহের মতন শুয়ে থাকি তোমার পাথর-চাপা বিছানায়, যেখানে ঘাসগুলো সব রুপোলি হাড়ের মতো জেগে থাকে
তোমার গর্ভ তো কোনো অন্ধকার গুহা নয়, ওটা আসলে এক চলমান পালকি—যা আমাকে বয়ে নিয়ে যায় শূন্যের দিকে
আমরা দুজনে মিলে এক নিষিদ্ধ শরীরি খেলায় মেতে উঠি, যেখানে জীবন এক ভ্রষ্ট কুমারীর মতো কেঁদে ওঠে
রক্তের প্রতিটি ফোঁটায় তখন কেবল এক পলকের চরম সুখ, আর তার পরেই অসীম নৈঃশব্দ্য
আমি দেখছি, ওই যে বাঁকানো ছুরির ধারের মতো এক সরু পথ—একপাশে থাকা, অন্যপাশে হারিয়ে যাওয়া
দাঁড়িপাল্লার মতো দুলছি আমি; একদিকে আমার নিশ্বাস, অন্যদিকে তোমার ওই হাড়ের গয়না পরা গভীর আলিঙ্গন
শেষমেশ জিতে যাও তুমিই, আমি তোমার ওই কবরের চাদর মুড়ি দিয়ে অকাতরে ঘুমিয়ে পড়ি
শোনো হে জীবন, আমি আজ তোমার অন্ধকার ছায়ার সাথেই ঘর বাঁধলাম—বলো, কার সাধ্য আছে আমাদের আলাদা করার?


২৮-১২-২০২৫
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্য যোগ করুন

কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।

মন্তব্যসমূহ

এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।