অস্থির পদপাত
- প্রসূন গোস্বামী
দুয়ারে দাঁড়িয়ে আছি, কড়া নাড়ার আঙুল অবশ—
ইচ্ছে করলেই ফিরে যাওয়া যায় মাটির গন্ধে, পুরোনো বইয়ের ভাঁজে
যেখানে শুকনো বকুলেরা আজও কথা বলে।
যেতে পারি, অনায়াসেই মেঘের ওপারে মেঘ হয়ে যেতে পারি
কিন্তু কেন যাব?
হাতছানি দেয় সেই চেনা গলি, যে গলি এখন আগন্তুক,
স্মৃতির কার্নিশে বসে থাকা চড়ুইটা আজ অন্য সুরে ডাকে।
আমি তো ভেসেছি অনন্ত জলরাশির মতো তোমার চোখের মায়া ছিঁড়ে,
এখন ডাঙ্গায় ফিরলে কি লোনা জলগুলো মিষ্টি হয়ে যাবে?
ফিরতে পারি, ভাঙা নৌকায় পাল তুলে আবার তীরে ভিড়তে পারি
কিন্তু কেন ফিরব?
বুকের ভেতর এক সমুদ্র অভিমান পুষে রেখেছি আজীবন,
তুমি তো সেই কবেই বিকেলের রোদে অন্য কারোর নাম লিখে দিলে।
এখন আমার ছায়ার সাথে আমারই কথা হয় না কোনোদিন,
শূন্যতা বড় ভারী, পাথর হয়ে চেপে বসেছে পাঁজরের ওপর।
মুছে দিতে পারি সব দাগ, নতুন করে জলছবি আঁকতে পারি
কিন্তু কেন আঁকব?
পায়ের নিচে ঘাসগুলো এখন বিষণ্ণ ধূসর লাগে,
বাতাসে কার যেন দীর্ঘশ্বাসের গন্ধ পাই প্রতিবার।
যেখানে যাওয়ার কথা ছিল, সেখানে আজ শুধু কুয়াশার দেয়াল—
আমি তো যেতেই পারি, ওই অমোঘ অন্ধকারের দিকে হেঁটে যেতে পারি
কিন্তু কেন যাব?
আমার যে যাওয়ার মতো কোনো ঘর নেই, আর ফেরার মতো কোনো তুমি নেই।
৩০-১২-২০২৫
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্যসমূহ
এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।

মন্তব্য যোগ করুন
কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।