বিবেকের দোকান ও আয়নার অন্ধকার
- প্রসূন গোস্বামী
অবাক জলধি নেমেছে দুয়ারে, ও তুই দুয়ার দিস না খুলে—
রক্তের দাগ ধুয়ে ফেলে ওরা, পবিত্র গঙ্গাজলে?
না না, ও তো গঙ্গাজল নয়, ও তো শুধু যুক্তির নর্দমা;
মানুষ মরলে নাম হয় তার ‘বিচ্ছিন্ন ঘটনা’,
আর শেয়াল ডাকলে হুক্কা-হুয়া, গর্তে গর্তে ক্ষমা।
আমি দেখেছি কাওরান বাজারে বিবেকের সস্তা নিলাম,
মোরগ কাটলে মূর্ছা যান যারা, তাদেরই আমি সালাম—
জানাই তাদের, যারা জেনোসাইডকে পকেটে ভরে রাখে,
আর থিওরির নস্যি ঘষে হিন্দু নিধন ঢাকতে।
ওরা নাকি সংখ্যাগুরু? যারা একটা চড় মারতেও ডরায়?
অথচ একটা জাতির শিকড় উপড়ে দিতে বিন্দুমাত্র না ঘাবড়ায়!
পঞ্জিকা বলে নতুন বছর, অথচ বাতাসে লাশের গন্ধ,
গ্রামের মফস্বলে জানালার ওপারে হিন্দু চোখগুলো বন্ধ।
ওদিকে বুদ্ধিজীবী চিবোয় কলম, কপালে ভাঁজ ফেলে—
বলবে, ‘প্রতিবেশী রাষ্ট্রের চাল, ওরা কার্ড খেলেছে খেলে!’
এক শেয়াল ডাকলে বাকিরা যখন সায় দেয় সমস্বরে,
তখন বুঝবে প্রগতিও আসলে মুসলিম লিগের ঘরে।
নাসিরুদ্দিন কাঁদে না এখানে, অমর্ত্যও নীরব ভারি,
অর্পণা সেনের চোখের জলে অন্য দেশের জমিদারি।
ভারতে গরু খেলে দেশ উৎসন্ন, সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড়—
অথচ নিজের দেশে ভাই মরলে, সে তো কেবলই ‘অপর’।
সকাল-বিকেল ইন্ডিয়া গিয়ে সস্তায় যারা বিফ খায়,
তারাই আবার ফিরে এসে বিষ ঢালে— মিথ্যের কী অনায়াস পায়!
শোনো হে প্রগতিশীল, শোনো হে নারীবাদী ভণ্ড—
আজ তুমি হিন্দুকে অস্বীকার করছ, কাল তোমারও হবে দণ্ড।
আজ তুমি মাজারপন্থী, কাল তুমি মুরতাদ বা কাফের,
তোমার ‘উচ্ছৃঙ্খল’ পোশাকেই মিলবে যুক্তি বিনাশের।
আগুনের কোনো ধর্ম নেই, সে চেনে শুধু দাহ্য শরীর,
আজ না রুখলে কাল তুমিও হবে লাশ— কোনো এক বেনামি তকদির।
মানুষকে তার পরিচয়েই মরতে দাও কেন?
হামলাকে হামলা বলো, ধামাচাপা নয় যেন।
মুরগি জবাইয়ে যারা কাঁদে, আর জেনোসাইডে হাসে—
তাদের চিনে রেখো, তারা এই বাংলার মাটিতেই বুক ফুলিয়ে ভাসে।
০৭-০১-২০২৬
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্যসমূহ
এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।

মন্তব্য যোগ করুন
কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।