অন্ধকারেই ফুটে আছে মানুষের নখ
- প্রসূন গোস্বামী

আমি তো অনেক বার বলেছি, জুতোর ভেতর পা না রেখে
হৃদয়ের ভেতর রাখো।
অথচ তোমরা করছ কী? মাংসের দলা নিয়ে কাড়াকাড়ি—
বলছ, ‘ওরা হিন্দু, ওরা তো মানুষ নয়!’
আহা, কী চমৎকার জিভ তোমাদের! যেন কালনাগিনী থুথু ফেলছে।

প্রথমে পিটিয়ে হাড় ভাঙবে? ভাঙো।
তারপর আগুনে পুড়িয়ে মারবে? পোড়াও।
কিন্তু ওই যে ধোঁয়া উঠছে আকাশে, ওতে কোনো ধর্মের ছাপ নেই।
বাতাস যখন ওই ছাই নিয়ে খেলে, সে তো জানে না
কার কপাল পুড়েছে আর কার মন্দিরের সিঁদুর ধুয়ে গেল!

আমি দেখেছি মানুষ যখন পশুর চেয়েও অধম হয়,
তখন তার হাতে ধর্মের লণ্ঠন থাকে, কিন্তু ভেতরে শুধুই অন্ধকার।
তোমরা মারছ কাকে?
যাকে মারছ, সে তো তোমারই আয়নার অন্য এক অবয়ব।
আগুন কি শুধু শরীর পোড়ায়?
না, আগুনের জিভ আজ তোমাদের বিবেককেও চাটছে।

যে হাতে মানুষ হওয়ার কথা ছিল, সেই হাত আজ কসাইয়ের।
যাও, আরও আগুন দাও, আরও রক্ত ঢালো—
মনে রেখো, শ্মশানের কোনো সীমানা নেই,
আর মানুষ হারলে কোনো ঈশ্বরই জিতে যায় না।


০৭-০১-২০২৬
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্য যোগ করুন

কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।

মন্তব্যসমূহ

এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।