নতমস্তক এই নগরে আমি ও আমার পাপ
- প্রসূন গোস্বামী
এখন বৃষ্টির শব্দে কোনো বাঁশির সুর নেই,
বরং শুনি বিদীর্ণ কোনো চিৎকারের প্রতিধ্বনি।
আমি সেই পথ দিয়ে হেঁটে যাই—
যেখানে ন্যায়ের কঙ্কাল পড়ে থাকে ধুলোয়,
আর আমরা নাগরিকেরা অতি সাবধানে পাশ কাটিয়ে বাড়ি ফিরি।
রবীন্দ্রনাথ বলেছিলেন, ঘৃণা যেন তৃণ সম দহে—
কিন্তু আমার পকেটে এখন কেবল এক মুঠো ছাই;
অন্যায়ের চাবুক যখন পিঠে পড়ে,
আমি তখন প্রতিবাদের বদলে ঘাড় চুলকাই,
হিসেব করি— এইটুকু সয়ে নিলে কতটুকু আয়ু বাড়বে আমার!
এই কি তবে আমার বাংলাদেশ?
যেখানে সত্যের চেয়ে মিথ্যার কারুকাজ বেশি মোহনীয়,
যেখানে আততায়ী আর ভুক্তভোগী একই টেবিলে বসে কফি খায়।
অন্যায় যে করে, সে তো এক পশুর অধিক কিছু নয়—
কিন্তু আমি যে সহে যাই, আমি কি তবে মানুষের অধিক কিছু?
আমি সহি, কারণ আমার মেরুদণ্ড এখন প্লাস্টিকের খেলনা,
আমি সহি, কারণ আমার স্বপ্নের চেয়ে আমার নিরাপদ ঘুণপোকা প্রিয়।
অথচ আয়নার সামনে দাঁড়ালে দেখি—
তৃণ সম দহনের বদলে আমি নিজেই এক তৃণের মতো তুচ্ছ হয়ে গেছি,
এই জনপদে আমি এক জীবন্ত পরাজয়।
এখনো সময় আছে, অবিনাশী কোনো এক বিকেলে—
নিজের ভেতরের এই সহিষ্ণু কাপুরুষটাকে বিসর্জন দেওয়ার।
নইলে এই মানচিত্র একদিন আমাদের ক্ষমা করবে না,
ইতিহাসের পাতায় আমাদের নাম লেখা থাকবে—
‘যারা কেবল বেঁচে থাকার লোভে মানুষ হতে ভুলে গিয়েছিল’।
১১-০১-২০২৬
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্যসমূহ
এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।

মন্তব্য যোগ করুন
কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।