অন্ধকারের পদধ্বনি
- প্রসূন গোস্বামী

আমাদের এই বদ্বীপের মানচিত্রে, যেখানে রোদের কথা ছিল—
সেখানে আজ ঘন হয়ে আসছে ছায়ার আদিম কারসাজি।
যে মেয়েটি বইয়ের ভাঁজে স্বপ্ন পুষেছিল ভোরের পাখির মতো,
তার চোখের তারায় আজ বিঁধে যাচ্ছে শঙ্কার কাঁটাতার।

আমরা বলছি, “এ তো শুধু বিচ্ছিন্ন এক চিলতে মেঘ।”
কখনো বা বলছি, “সামান্য ঝড়, কেটে যাবে অচিরেই।”
কিন্তু বাতাসের কান পাতলে শোনা যায় এক অচেনা মন্ত্র,
যা শেকল পরাতে চায় আগামীর প্রতিটি চঞ্চল পায়ে।

ধর্মের দোহাই দিয়ে যারা আলোর পথ আগলে দাঁড়ায়,
তারা আসলে ভয় পায় মানুষের মুক্তিকে।
প্রথমে তারা ছিঁড়ে ফেলে একটি রঙিন পাতা,
তারপর উপড়ে ফেলে পুরো বাগান—
আর আমরা তাকেই ‘বাস্তবতা’ বলে মেনে নিই নির্বাক।

অফিসের ডেস্কে, গবেষণাগারে কিংবা তপ্ত রাজপথে—
যেখানে নারীর মেধা আর শ্রমের ঘাম মিশে ছিল,
সেখানে আজ নিঃশব্দে নেমে আসছে এক অন্ধকার যবনিকা।
প্রথমে যা ছিল বিচ্ছিন্ন সংবাদপত্রের ছোট কোনো কলাম,
তা আজ ডালপালা মেলে গ্রাস করছে আমাদের পুরো অস্তিত্ব।

এই বাংলা কি তবে পিছু হটতে শিখছে?
হাজার বছরের লড়াই শেষে আবার কি সেই খাঁচার হাতছানি?
যদি আজ না জাগি, তবে ইতিহাসের পাতায় লেখা হবে—
আমরা চেয়ে চেয়ে দেখেছি, কীভাবে একটি জাতির গোটা আকাশ
কুসংস্কারে কালো মেঘে ঢাকা পড়ে গিয়েছিল চিরতরে।


১৩-০১-২০২৬
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্য যোগ করুন

কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।

মন্তব্যসমূহ

এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।