তৃষ্ণার বালিয়াড়ি
- প্রসূন গোস্বামী

হাতের তালুতে সেই পুরোনো শ্যাওলা নেই… নেই।
সবটা কি তবে লু-হাওয়া? ধুলোবালি?
অরণ্য তো ছিল, ওইখানে—যেখানে আজ কেবল তপ্ত বালির দীর্ঘশ্বাস।
আমি দেখছি, ওই দূর থেকে একটা প্রাগৈতিহাসিক উট হেঁটে আসছে…
তার পিঠে কোনও সওদাগর নেই, আছে শুধু কিছু ধারালো পাথর আর ভাঙা তলোয়ার।

বাতাসটা কেমন যেন… বালুর মতো খসখসে, বিস্বাদ।
ওরা বলছে, “জল নাও, তবে এই মরুভূমির জল।”
আমি জানি ওটা মরীচিকা।
জোর করে গলার ভেতর ঢেলে দিচ্ছে তপ্ত বালুকারাশি—
ওটাই নাকি অমৃত? ওটাই নাকি মুক্তি?

রক্তে মাংসে সেই সবুজ ঘাসগুলো শুকিয়ে যাচ্ছে।
মাথা নিচু করো—ওরা বলছে।
মাথা নিচু করলে তো কেবল ধুলোই দেখা যায়, আকাশ নয়।
মধ্যযুগ কি তবে ফেরে? উটের পায়ের শব্দে?
অসভ্য বালির ঝড় এসে ঢেকে দিচ্ছে আমার জন্মদাগ।
আমি কি তবে আর আমি নেই?

অন্ধকার আসছে… কোনো মোমবাতির নেভা নয়,
এ এক নিকষ, আদিম, মরুময় অন্ধকার।
যেখানে ছায়ারাও ভয়ে বালির নিচে লুকায়।
আমি হাত বাড়ালাম… কিন্তু ধরলাম শুধু একমুঠো তপ্ত ছাই।

সবটাই কি তবে… বালির ওপর লেখা?
মুছে যাচ্ছে… সব… মুছে…


১৭-০১-২০২৬
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্য যোগ করুন

কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।

মন্তব্যসমূহ

এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।


slot gacor 2026 slot gacor situs slot gacor 2026