মানুষের অধিক কিছু নেই
- প্রসূন গোস্বামী
এখন বিকেল। আমার বুকের ভেতর এক অদ্ভুত বিমর্ষতা—
যেন কোনো পরিত্যক্ত মন্দিরের সিঁড়িতে বসে থাকা
একলা এক ভিখারিণী, যার হাতে কোনো প্রার্থনা নেই।
আমি ঈশ্বর দেখিনি, আমি মানুষ দেখেছি।
আমি দেখেছি মানুষের ঘামের ভেতর নুন আর কান্নার ঘ্রাণ।
যে তিলক বা তসবিহ আজ বিভাজন আঁকে কপালে,
আমি তার চেয়ে বরং ধুলোবালিমাখা ওই হাতটিকে বেশি ভালোবাসি;
যে হাত দিয়ে এক তৃষ্ণার্ত মানুষ অন্য একজনের তৃষ্ণা মুছে দেয়।
আমার কোনো স্বর্গ দরকার নেই, কোনো চিরস্থায়ী মদিরা—
যদি সেখানে গিয়ে দেখি মানুষের সেই মায়াবী ভুলগুলো নেই!
আমি বরং এই মর্ত্যেই থেকে যাব,
যেখানে দুঃখ আছে, জরা আছে, আর আছে মানুষের বুকের ওম।
ধর্ম কি তবে একশ’ তালি দেওয়া জরাজীর্ণ কোনো আলখাল্লা?
যা দিয়ে আমরা আমাদের নগ্নতাকে ঢাকতে চাই?
আমি বরং নগ্ন হতে রাজি, যদি তা আমাকে নিছক ‘মানুষ’ করে রাখে।
হে মহাকাল, আমাকে কোনো নামের শেকলে বেঁধো না—
আমায় শুধু এইটুকু বলো:
আমি যখন চলে যাব, যেন কোনো এক আগন্তুক আমার কবরের পাশে দাঁড়িয়ে বলে—
“এখানে কোনো হিন্দু বা মুসলমান ঘুমিয়ে নেই,
এখানে নিথর হয়ে আছে এক খণ্ড বিরহী মানুষ।”
২১-০১-২০২৬
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্যসমূহ
এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।

মন্তব্য যোগ করুন
কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।