রানার
- সায়েল আচার্য
আমি রানার! আমি দৌড়ে চলেছি আকে'বাকে_গলির পাঁকে
শেষ কিংবা শুরু; আমি মানি না বসন্তের ঘুম_ছুটছি অনবরত;
আমি দেখেছি জরা_দেখেছি জন্মের আর্তনাদ; তবু মানিনা ভয়
এই বিশ্বম্বর পৃথিবীতে জন্ম_মৃত্যু সবই একই সাথে সহেছি।
আমি দেখেছি রাখালের পাল_উঁচু উঁচু মিনার; তবু নয় ক্লান্তি
গাঁয়ের শীতল বাতাস; হরিতের প্লাবন, দেয় খানিকটা স্বস্তি।
আমি আর দূরে কত জোরে দৌড়ে দেখেছি লক্ষ্যভেদী চাহনি_
পায়ে কণ্টক ফেলে_ছেড়া কাথায় শুয়ে স্বদেশের কাছে পৌঁছি
আমি কোলে করে নিয়ে যাই সদ্যজাত শিশুর খবর;
সেই দূর সীমান্তে যেখানে তার পিতা টহল দিচ্ছে।
আমি গুনি কোলাহল_বেদনার আধি'তে ঘেরা দুঃসময়ে
আমি দৌড়ুতে পারি কিংবা না পারি তবু একটা আছে আশ্বাস
মৃতের কাফনের উপারের চিতাভস্ম সবি নিজের চোখে দেখি
আমি রানার! আমি খালি পায়ে এই দেশ'দুনিয়ার খবর আকি।
আমি আমার খবর সদা লুকোই; লুকিয়ে রাখি উদ্বাস্তু হয়ে,
নয় গুপ্তধন_নহে স্বর্ণের খনি তবু হইনা ভ্রান্ত গুপ্তচর সেজে_
আমি পিছুপা হইনা তরুণদের ব্যথিত কান্নায়;
আমি কী বা করতে পারি; শুধু নতস্বরে লিখে রাখি উপস্থিতি।
আমি তুফানে ঘেরা মৃত্যু পাবনের পথ বুনেছি
কোলাহল'মুখর নীড়ে ধ্বংসস্তুপের দেখেছি—
তবু হইনা আমি পর্যদুস্ত; কারণ আমি রানার;
নৈরাজ্যের কাষ্ঠ অবয়বকে এক নিমিষে গুড়িয়ে দিতে জানি।
ঘুমিয়ে পড়ি'না পদ্ম পাতার উপর সেই গভীর পাঁকে
কারণ আমাকে খবর নিতে হবে উচ্ছিষ্টের আস্তাকুর হতে;
তাই আমি বজ্রকন্ঠে দেই সেই হুংকার
আটকিও না আমার পথ; আমি কোনো আততীয় নই।
আমি হলাম সেই পরাগ যে যাযাবর নই; তবু ঘুরে ফিরি
মৃত্যুর এই দরবার হতে সংবাদ নিয়ে কভু যেন ধৃত হই।।
২৪-০১-২০২৬
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্যসমূহ
এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।

মন্তব্য যোগ করুন
কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।