প্রথম দেখা
- সবুজ বিপ্লব ২৭-০৫-২০২৪

প্রথম দেখা
✍️সবুজ বিপ্লব
১৪/০৩/২০২৪ ইং

তুমি যখন শিশির ভেজা গোলাপের মত
কোন এক শীতের সকালে আমার সামনে এসে দাঁড়ালে,
আমার সারা শরীরে খেলে গেল একটা স্পন্দন,
হঠাৎ যেন রক্তের কণিকা গুলো শিউরে উঠল।
তুমি যখন বাঁকাচোখে আমার দিকে তাকালে
শিশির ভেজা ও-পাপড়ি গুলোর কম্পনে
আমার তনু-মন -প্রান
বীণার মত বেজে উঠতে চাইল।
তুমি যখন তোমার বুকের ওড়না ঠিক করায় জন্য
হঠাৎ খুব মনোযোগী হয়ে উঠলে,
আমার মনে হল,
বক্ষদ্বয় ঢাকতে গিয়ে, নিজের সত্তাকে প্রকাশ করলে।
ঠিক তখনই তোমার ভিতর থেকে স্বস্রাধিক ভোল্টেজের
বিদ্যুৎপ্রবাহ নির্গত হয়ে আমাকে শক করল।

তুমি যখন কাঁপা কাঁপা ঠোঁটে নিচুস্বরে কথা বললে
বায়ুমণ্ডলের সমস্ত তরঙ্গ গুলো নেচে নেচে
ধ্বনি প্রতিধ্বনি হয়ে আমার কানে বেজে উঠলো,
তোমার প্রতিটি উচ্চারিত ধ্বনি আমার কর্ণ যুগলে বিধে গেলো।
আমি যখন এক পা এগিয়ে তোমার কাছে গেলাম,
মনে হল একটি ফুটন্ত গোলাপের পাশে এসে দাঁড়িয়েছি,
লোকালয়ে হতে অনেক দূরে কোন এক নির্জন পল্লীর
অনুর্বর ভূমির সহস্রাধিক কাল সাধনার ফসল তুমি।

তুমি যখন হাত বাড়ালে আমার দিকে
আমার রক্তে, আমার অনুভবে ফুটন্ত লাভার আবেগ-
তীব্র উত্তাপে, আমার ভেতরের রক্তের নির্যাস
গলানো মোমের মত বেরিয়ে আসতে চাইছে।
যতই নিজেকে সামলানোর চেষ্টা করেছি
ততই কোন এক অদৃশ্য ঝর্ণার ঝংকার শুনতে পেয়েছি।।

তারপর থেকে যতবার কোন নদীর কাছে এসেছি,
নদীর জলের ছলছল ধ্বনিতে বয়ে যাওয়া আবেগ
আমার বুকের ভিতর তরঙ্গ সৃষ্টি করেছে,
আমি যতবার নির্জন রাতের আকাশের দিকে তাঁকিয়েছি
ততবার মিটিমিটি জ্বলা নক্ষত্রগুলো একে-একে
আমার প্রাণের চেরাগ জ্বালিয়ে তুলেছে।
সেই আলোর দীপ্তলোকে আমি এখনো চলেছি
নির্জন কোন পথের পথহীন পথিক হয়ে।

আজও আমি জানিনা তোমাকে কি নামে ডাকবো,
কোন নামে ডাকলে তোমারে ফুটন্ত পাপড়ি গুলো
আন্দোলিত হয়। কোন নামে ডাকলে! আমার-
পদ্মমূলের কোমল কাকড়ির প্রকাশ ঘটাতে পারি।।

মন্তব্য যোগ করুন

কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।

মন্তব্যসমূহ

এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।