মৃতের সক্ষমতা
- আকতারুল ইসলাম

মরে যাওয়া মানেই পঁচে যাওয়া কিংবা
মাটির সাথে চিরতরে বিলীন হওয়া নয়।
মরে যাওয়া মানে পৃথিবীর পাঠ চুকিয়ে
অনন্তের অতল গহ্বরে হারিয়ে যাওয়া নয়।
এদেশে মৃতের অনেক কাজ, অনেক দায়িত্ব
প্রতিটি মৃত ব্যক্তি তা মেনে চলছে যুগ যুগান্তর
এখানে মৃত ব্যক্তি জীবিত ব্যক্তির বিরুদ্ধে
প্রায়শই স্বপ্রণোদিত হয়ে মামলা ঠুকে দেয়।
আবার জীবিত ব্যক্তির করা মামলাগুলো
মৃত ব্যক্তির ঘুম চিরতরে হারাম করে দেয়।

কি বুঝলেন? মরে গেলেই সব শেষ হয় না।
এখানে মৃত ব্যক্তি ভোটাধিকার প্রয়োগ করে
একটি বা দুটি নয়, তারও অধিক ব্যালটে
শত ,সহস্র ভোটের কালিমা‌ লেপ্টে দেয়।
তাহলে বুঝুন, মৃতের এ কেমন সক্ষমতা!
মৃত ব্যক্তি স্থান পায় অন্তর্বর্তী সরকারে
গণতন্ত্র রক্ষায় দুঃসাহসী ভূমিকা পালনের।
মরে গেলেই দুনিয়ার হিসেব শেষ হয় না।

মৃতের নামে হচ্ছে পুরো দুনিয়া লিপিবদ্ধ
অগণিত মামলা গড়ায় আদালত পাড়ায়,
হয়ে যায় কখনো কখনো মৃতের ময়নাতদন্ত।
মৃত লেখে ইতিহাস, মৃতের ইচ্ছায় পড়ে লাশ,
মরে যাওয়া মানেই চিরতরে প্রস্থান নয়।

এখানে মৃতরা কখনো জীবিতের চেয়ে দামি
উঠে নাম তাদের বইয়ের পাতায় পাতায়
সরকারের পুরনো দিনলিপিতে আজও তারা
সগর্বে জানান দিয়ে চলেছেন নিজেদের সক্ষমতা।
মরে যাওয়ার সার্থকতা বোধহয় এখানেই
জীবন বোধের অবক্ষয় এই বঙ্গভূমে আজ
ইতিহাসের কালো অধ্যায়ের সূচনা করেছে।
এখানে জীবন মরণের কোন পার্থক্য নেই।
তাই মৃত্যু ভয়ে থাকার অহেতু কারণ নেই।


০৮-০৪-২০২৪
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্য যোগ করুন

কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।

মন্তব্যসমূহ

এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।