আজ ৭ কার্তিক ১৪২৬, মঙ্গলবার

প্রিয়ার স্মরণে
- অধ্যাপক আব্দুস সালাম

বাবা ও মায়ের আদর সোহাগ পাওনি কখনো তুমি,
বঞ্চিত তব জীবনের কথা কেমনে ভুলিব আমি?
ছোট্ট বেলায় বোউ হয়ে তুমি এসেছিলে মোর ঘরে,
কাঁদিয়া কাটিয়া অস্থির হতে নায়ারে যাবার তরে।
কেউ তো ছিল না সান্তনা দাতা কেউ তো আসেনি নিতে,
কত কাল হায় আমি পারি নাই দুঃখ ঘুচায়ে দিতে।
ছিল না তোমার শীতের বস্ত্র পারি নাই দিতে কিনে,
আমি ছিনু হায় অতি অসহায় টাকা ও পয়সা বিনে।
কত দিন আমি তোমারে লইয়া গিয়াছি শ্বশুর বাড়ী,
কত যে কষ্ট হইত আমার তোমারে আসিতে ছাড়ি।
না খেয়ে বা খেয়ে পসরা করেছো কত না কষ্ট করে,
ঘোচায়েছো মোর দীন-হীন দশা সারাটি জীবন ভরে।
ছনের কুটির হয়েছে বিলীন দালান উঠেছে গ’ড়ে,
সবকিছু আজ করিছে বিরাজ তুমি গেছো সব ছেড়ে।
হয়েছিলে তুমি রত্ন গর্ভা, চারিটি রত্ন থুয়ে,
ভাসায়ে আমারে অশ্রু-সায়রে কবরে রয়েছো শুয়ে।
ছেলে দুটি তব ইঞ্জিনিয়ার দু’মেয়ে অধ্যাপিকা,
কত না আপন জনের মাঝে আমি আজ বড় একা।
তাই ব্যথাতুর বিরহ বিধুর হৃদয়-রাজ্য ছাড়ি’,
আহত এ হিয়া কেমন করিয়া ওপারে ধরিব পাড়ি?

আজ কত কাল সন্ধ্যা-সকাল তিতিয়া অশ্রু নীরে,
তুমি যেথা নাই আমি সেথা হায় কেমনে উঠিব নীড়ে?
আজি এ অরণ্য তোমার জন্য জীবন রেখেছি বাজি,
তোমার জন্য রোপন করেছি ফুলের বৃক্ষ রাজি।
নিঠুর বিজনে তোমায় বিহনে প্রাণ করে হাহাকার,
তুমি বিনে হায় কে হবে সহায় উৎরাতে পারাবার।
তোমারে স্মরিয়া অশ্রু ধরিয়া রাখিতে পারে না আঁখি,
ওগো মোর পিয়া আহত এ হিয়া কেমনে ধরিয়া রাখি?
আমি যাইতাম রাজশাহী আর তুমি অপলক চোখে,
চুপটি করিয়া চাহিয়া থাকিতে আমার পথের দিকে।
মাঝে মাঝে আমি পিছন ফিরিয়া দেখেছি তোমার মুখ,
দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলিয়া চলেছি নিয়ে ব্যাথাতুর বুক।
তব টুকটুকে মুখখানি আর সোনার বরণ দেহ,
এ বাড়ির যত লোক ছিল তারা ভুলিতে পারেনা কেহ।
তোমার হাতের শিউলী তলায় যখন প্রভাতে আসি,
শিউলী ফুলের সুবাসের মাঝে দেখেছি তোমার হাসি।

স্বপ্নপুরীর কুহেলি কুঞ্জে পুঞ্জ মেঘের ছায়া,
দূর হতে হায় শুধু মনে হয় বিজন বনের মায়া।
স্বপ্ন আমার সারারাত হেঁটে যখন তোমারে চায়,
নিদ্ মহলের আঙিনায় এসে তোমারে খুঁজিয়া পায়।
তোমার আঁখিতে জড়ানো স্বপ্ন আমার নয়ন পাতে,
একাকার হয়ে রঙিন হয়েছে স্বপ্ন মধুর রাতে।
হাজার বছর লালন করেছি প্রাণের পূণ্য গীতি,
নিঃস্ব করেছি বিশ্বভূবনে আমার প্রণয়-প্রীতি।
স্বপ্নপুরির স্বপ্ন সুষমা নয়ন ভরিয়া আনি,
সুর বিতানের সুরের লহরী তুলে আনে বীণাপাণি।
তুমি ছিলে মোর ঘরের লক্ষ্মী প্রাণের লক্ষ্মী বধূ,
তোমারে স্মরিয়া মরিয়া হইয়া কেঁদে ফিরি আজ শুধু।
আল্লার কাছে দোয়া করি আমি আয় খোদা দয়াময়,
আমার সোনার বধূটির যেন বেহশ্ত নসীব হয়।

মন্তব্য যোগ করুন

কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।

মন্তব্যসমূহ