আজ ২০ অগ্রাহায়ণ ১৪২৯, রবিবার

তবুও কাঁপে না মানবহৃদয়
- সাদমান সাকিল

এসে দেখে যাও ওগো এলিয়েন,
আমাদের পৃথিবীতে বিরাট বিরাট কিছু ছায়াছবি হচ্ছে,
এসে দেখে যাও সেই মৃত বাচ্চাটির মুখ,
এসে দেখে যাও সাগরের তীরে বাচ্চাদের লাশ,
এসে দেখে যাও মৃত মানবতা।
এলিয়েন, হাসছো কেন? ভেবেছ আমি গল্প বলছি?
মোটেও গল্প না এসব, এসব আমাদের পৃথিবীতে প্রায়ই হয়।

বাচ্চাটির আত্মা আজ জাতিসংঘে গেছে,
নির্মম প্রহরীগুলো ওকে ডুকতে দেয় নি!
ওই আত্মাটিকে ডেকে কেউ একজন বলে
"শোনো বালক, এখানো প্যাঁচাল পেরে কোন লাভ নেই,
ঘুমিয়ে পড়, তোমার কি খেলাধুলা করার সাথী দরকার?
জাস্ট ওয়েট, তোমার মতো হাজারো ছেলেমেয়েকে আমরা
তোমার কাছে পাঠিয়ে দিব, চিন্তা করো না।"

ছেলেটির লাল শার্ট দিয়ে, ছেলেটির কালো প্যান্ট দিয়ে
মানবতা আজ শোকের ক্যানভাস বানাবে,
ওই যে মৃত ছেলেটির জুতো জোড়াতে কি যেন ভেসে উঠেছে।
ছেলেটি এর আগে কখনো সৈকতে ভ্রমন করেনি,
কিভাবে করবে, সারা দেশে যুদ্ধের দামামা বেজেই যাচ্ছে।
ছেলেটি কি জানত এভাবে আত্মাকে আলাদা করে-
মনে অনেক না বলা কথা নিয়ে,
শত শত কষ্ট বুকের পাজরে বেঁধে,
সাগরের তীরে ভ্রমণে যেতে হবে? কি জানি, জানত কিনা!

ছেলেটির আশে পাশে কিছু মাছি ঘুরঘুর করছে,
তারা ভাবছে এমন নিস্পাপ শরীরে স্পর্শ লাগাবে কিনা,
মাছিরা ভাবছে, ভেবে ভেবে হচ্ছে হয়রান।
সূর্যটি ছেলেটিকে একা রেখে ডুব দিতে চাচ্ছে না।

ওগো, এলিয়েন, তুমি আর পৃথিবীতে এসো না,
স্বর্গ-নরক নামের আদৌ কিছু আছে কিনা জানি না,
যদি থেকে থাকে তবে আমাদের পৃথিবীটাই একটি নরকের আড়ত!

সাগরের বুকে ভেসে ভেসে যখন শিশু-লাশটি তীরের দিকে এগিয়ে আসে-
তখন পুরো মহাকাশ কেঁপে উঠে সহসা।
শুধু কাঁপে না পৃথিবীর এই হোমো সেপিয়ান্সদের হৃদয়,
কিছুতেই কাঁপে না, কিছুতেই কাঁপবে না...
-----------------------
সাহিত্য সম্পাদক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রথম আলো বন্ধুসভা।
সাহিত্য সম্পাদক, গ্লোবালপোস্ট২৪ডটকম।

মন্তব্য যোগ করুন

কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।

মন্তব্যসমূহ