আজ ৩ অগ্রাহায়ণ ১৪২৬, রবিবার

যেই মেয়েটা
- মাহমুদুল মান্নান তারিফ - সোনালি কবিতা

০১.
যেই মেয়েটা
_____________________
মাহমুদুল মান্নান তারিফ

আমার মায়ের কোমর ঠেলে যেই মেয়েটার বড়াই
বলতো মাকে যাসনা না বুড়ি বাড়ি হতে তোরাই!
সেই মেয়েটা দিলো নিজের বাবার মুখে কালি
ঘরেবাইরে সেই মেয়েটা, সবার চোখের বালি।

যেই মেয়েটা অহঙ্কারে লোক চিনতো না আপন
সেই মেয়েটা মনের দুঃখে করছে জীবন-যাপন।
আমার মা তো কেউ ছিলোনা অন্য বাড়ির কেউ
গরিব বলে ধিক জানাতো তারই ধনের ঢেউ।

যেই মেয়েটার কটুকথা সইছে আমার মায়
সেই মেয়েটার দুঃখে আমার মায়ে দুঃখ পায়।
নেইবা ছিলো যেই মেয়েটার নিঃস্বে ভালোবাসা
আকাল পড়ে তার কপালে সামনে কালো ঠাসা।

রচনাঃ ২১০৩২০১৯

০২.
মায়ের জন্যে ঘর
______________________
মাহমুদুল মান্নান তারিফ

ঘর বানালাম মায়ের জন্যে ইটের পাকা ঘর,
লোহা সিমেন্ট বালির মিশ্র যেনো বালির চর।
রঙ দিয়েছি ঘরের গায়ে আর না দেখি বালি,
ঘর বানিয়ে সাফ করেছি মায়ের মুখের কালি।

লেদার ভরা কিতাব ছিল আমার যতো পড়ার,
কোথা' রাখবে যত্ম করে বুকখানা মার ডরার।

ঘুণ পোঁকারা বইয়ে ধরলে করবে কুচিকুচি,
রাখবে না মা লেদারখানা ভাঙ্গা ঘরে গুছি।
তবে যে মা রাখবে কোথায় খুঁজছে ধীরে ধীরে
স্থির করেছে নিয়ে যাবে আত্মীয়ের এক নীড়ে।

অনেক কষ্টে মাথায় তোলে বইয়ের লেদারখানা,
ঘরের থাকে রাখতে গিয়েই এলো কঠোর মানা।
আত্মীয়টার বউয়ে এসে থাক হতে দেয় ফেলে,
লাথি দিয়ে লেদারটাকে মার দিকে দেয় ঠেলে।

মা জননী কাঁদছে পড়ে মাটির পিঠে লোটে,
কেউ দরদি হয়নি মায়ের কেউনা এলো ছোটে।
তখন আমি অবুঝ মনে জল মুছে দেই মার,
মাকে বলি আল্লাহ সহায় লেদার দাও আমার।

বহুদিন এই লেদারখানা পরের বাড়ি ছিলো,
আপন চেয়ে পরই ভালো লেদার বলে দিলো।

সেই লেদারটা এখন আমার পাকা ঘরের থাকে,
বলছে যেনো নিত্যদিনই ছুঁইতে আমার মাকে।
মা জননী এখন খুশিই হাসি যে তাঁর চোখে,
মায়ের সুখে হাসি আমি কাঁদি বাবার শোকে।

রচনাঃ ২৬/০২/২০১৯

মন্তব্য যোগ করুন

কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।

মন্তব্যসমূহ