কেউতো আছে পাশে
- এ কে সরকার শাওন - আপন-ছায়া

কৃষ্ণপক্ষের ৪র্থ রাত্রির শেষ প্রহর,
আকাশে ক্ষয়িষ্ণু চাঁদ ২৪ পাটি
দন্ত বের করে হাঁসছে!
অপরূপ তারামণ্ডল মিটমিট করে
তাঁদের মনের কথা বলে যাছে অকপটে
শরতের মেঘযুক্ত আকাশে!

পালাকরে ঝিঁঝিঁ পোকারা ঝিঁঝিঁ ঝিঁঝিঁ
করে নিশুতির বিলাপের সুর সাধছে।
পড়শীর মোরগটা অনবরত
কুক কুরো কো কুক কুরো কো বলে
রাতের বিষণ্ণ বিদায়ের জানান দিচ্ছে!

গুল্ম-লতা-পাতা-কলা-আম গাছ,
কাঁধে কাঁধে আধাঁরেতে মিশে আছে বেশ!
কালো মেঘের পাহাড়ের মত হয়ে,
জাম গাছ ছড়িয়েছে রহস্যময় আবেশ।

তার নীচে ধবধবে সাদা সমাধিতে
শান্ত শুনশান নিশ্চুপ নিরালায়;
কে জানি চুপিসারে ডাকছে আমায়!
আয় বাছা শুয়ে পড় চিরনিদ্রায়,
মাটির পৃথিবীতে কেউ কারো নয়!

ক্ষাণিক পর পর যান বাহনের
অশেষ অক্লান্তিকর পথচলা শব্দ,
বড় গোলাকার দেয়াল ঘড়িটার
পেন্ডুলামের ক্রমাগত দোলা;
টিক টিক করে জানান দিচ্ছে
জীবন মানেই ক্রমাগত বয়ে চলা!

চলছে ঘড়ি নিরলস একঘেয়েমি
নিরন্তর কর্মময় পথ চলে,
যন্ত্রদানব ও মানবের মাঝে কতটা
ফারাক ঠিক টিক টিক করে বলে!

আমি ঘরের চৌকাঠে
একাকী বসে নির্ঘুম রাতে;
রাতের ক্ষণিকের সাথী হবার
ধ্যানে র্নিমগ্ন সামান্য চেষ্টাতে ।

রঙ্গীন নয়নতারা ফুলগুলি চুপচাপ
আলো আধাঁরে লুুকিয়ে আছে!
বর্ণহীন নয়নতারাগুলি
বিবর্ণ আমাকে পেয়ে মুখটিপে হাঁসছে!
একজন পাওয়া গেছে অবশেষে;
তাদের খুব কাছে!

করিৎকর্মা গৃহশত্রুরাও থেমে নেই,
উৎসবের হোলি হবে সুরের জালে!
নিরীহ গোবেচারা প্রাণী পেলে,
সবাই বিষের ফণা তোলে!

মা বাবা পরিবার প্রিয়জন,
সফল ঘুমের পরিসমাপ্তির পথে!
আমি ছোট্ট প্রিয় প্রাঙ্গণে বসে
ভাবছি আছি বিশাল গড়ের মাঠ!

চারিদিকে এত সব রহস্যাবৃতের মাঝে
নিজেকে করিতে পারি না ব্যক্ত ;
এত বড় পৃথিবীতে আমি শুধুই একা,
যেন নিউজপ্রিন্টের ঠোঙ্গা পরিত্যক্ত!

শুনশান রাতের নিস্তদ্ধতা ভেঙ্গে
হঠাৎ তাঁর উৎকণ্ঠিত কণ্ঠ,
" কখন থেকে তুমি বাহিরে ?
ঠাণ্ডা লাগবে গো! রুমে চল! ঘুমাবে!
একাকী উঠানে বসে কি করছো আধাঁরে!"

সম্বিৎ ফিরে পেয়ে দেখি,
সোয়া চারটা পার হয়ে ঘড়িটা দ্রুত চলছে!
অনুভাবিত মন সহসা বলে
"এখনও কেউতো আছে পাশে
জীবনটা নয় এত পানসে!"

শাওনাজ, উত্তরখান, ঢাকা।
১৯ আগষ্ট ২০১৯


০৬-০৬-২০২৩
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্য যোগ করুন

কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।

মন্তব্যসমূহ

এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।


slot gacor 2026 slot gacor situs slot gacor 2026