আজ ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭, শনিবার

অনন্ত হাহাকার
- এ কে সরকার শাওন - প্রণয়-প্রলাপ

ছোট্ট টেবিলের দু'পাশে,
দু'টো চেয়ার রঙ্গীন ছায়া-ছাতার নীচে,
একটিতে আমি বসে নিশ্চুপ একা
অন্যটি শুন শান ফাকা!

এক জোড়া কাপ-পিরিচ;
কাপে সাদা ধোয়ার কুণ্ডলী
উপরে উড়ে হাওয়ায় বিলীন।
নিরালায় একাকী দীর্ঘক্ষণ
মনটা ভীষণ উদাসীন!

হঠাৎ লক্ষ্য করি সে!
হ্যঁ, সে ই তো সে;
অনতিদূরে সাগরের জলে
চারিদিকে জল ছিটিয়ে জলকেলী করছে!
সে কি আনন্দ উচ্ছ্বল!
বাতাসে চোখে মুখে চুল আছড়ে পড়ছে,
সে বার বার হাত দিয়ে সরাচ্ছে;
দুরন্ত বাতাসে উড়ছে তাঁর শাড়ীর নীলাচল!

ঢেউয়ের নাচে সফেদ ফেনা
তাঁর হাটু পর্যন্ত ঢেকে দিয়ে
আবার সাগরে মিলিয়ে বিলীন,
আমি চেয়ে আছি পলকহীন!

অনতিপরে ডান হাত উচু করে
আমায় ডাকলো ইশারায়,
অতঃপর দুই হাত গোল করে
মুখের সামনে ধরে মাইক বানিয়ে
ডাকলো আমারে পুনর্বার
জোরে আরো জোরে চিৎকার করে!
আ-কা-শ চলে এসো!
চলে এসো সাগরের জলে,
তোমায় নিয়ে বিলীন হবো
সূর্য হারাবে যবে ঐ অস্তাচলে!

আমি অবাক হয়ে ভাবি,
সে এখানে! তা কি করে হয় হায়!
ছাতার ঝালর আর আমার শাল
পাল্লা দিয়ে উড়ছে দুরন্ত বায়!

বাতাস আমায় কানে কানে বলে
আকাশ, যাবে চলো, অনন্য এই সাঝে;
তোমার প্রিয়া এসেছে!
তাই ঢেউ নাচছে সাগর দুলছে
ধরা সাজছে রম্য সাজে!

তার পানে ছুটছি আমি
পা ভিজিয়েছি সাগরের জলে;
হেসে হেসে সে আসছে মোহনীয় ভঙ্গীতে
সুর ও লহরীর তালে তালে পা ফেলে!

তার হাতের স্পর্শে
বিদ্যুৎ চমকিয়া আলোকিত হলো চারিধার;
চোখে মুখে আলোরছটা
দেখা হয়নি তো কিছু আর।
পরক্ষণেই আলো হাওয়ায় মিলালো
বিশ্বজুড়ে নামলো গাঢ় অন্ধকার।
বুকের ভিতর আবার সেই অনন্ত হাহাকার!


শাওনাজ, ঢাকা।
১২. ০৩.২০২০

মন্তব্য যোগ করুন

কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।

মন্তব্যসমূহ
ফয়জুল মহী
১৮-০৫-২০২০ ০৩:১১

নন্দিত উপস্থাপন ।